যে লেকের পানি স্পর্শ করলেই হয়ে যাবেন মমি !

যে লেকের পানি স্পর্শ করলেই হয়ে যাবেন মমি !

এই পৃথিবীতে প্রকৃতির বৈচিত্র্যের যেন শেষ নেই।সুন্দরের পাশাপাশি প্রকৃতিকে হয়ে উঠতে দেখা যায় ভয়ংকরও।সেই সঙ্গে প্রকৃতিতে স্থান পেয়েছে যেন পরাবাস্তবতাও।এ পৃথিবীরই কিছু বিস্ময়কর স্থান দেখলে মনে সন্দেহ জাগবে,এগুলো কি বাস্তব নাকি অবাস্তব?মানুষের কল্পনাকেও হার মানানো এরকম বিস্ময়কর এক স্থান নিয়ে আজকের এই আয়োজন।পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম একটি লেক, যে লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখে মুহূর্তেই যেকোন পর্যটকের চোখ জুড়িয়ে যায়।লেকের বাহারি লাল রং আর স্বচ্ছ পানির ধারা দেখে যে কারোর ইচ্ছে করবে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে আসতে।কিন্তু এই লেকে ভুলেও ঝাঁপ দেওয়া এবং সাতার কাটা সম্পূর্ণ মানা।কারন এই লেকে পানিতে কোন প্রাণী পড়ার পর পরই প্রাকৃতিক ভাবেই রুপান্তরিত হয়ে যায় প্রাণহীন মমিতে।হ্যা বন্ধুরা ঠিকই শুনেছেন পানি স্পর্শ করার সাথে সাথে যে কোন প্রাণী হয়ে যায় মমি।পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ারার উত্তর প্রান্তে কেনিয়া আর তানজানিয়া সীমান্তের মাঝে অবস্থিত এই লবণাক্ত লেকের নাম ন্যাট্রন।একবার দেখলে বার বার দেখতে মন চাইবে।সৌন্দর্যের কারণে অনেকে লেকটিকে বেহেশতের সাথেও তুলনা করেছেন।কিন্তু বাস্তবে এটা একেবারে ভিন্ন।লাল বর্ণের এই লেকটিতে উচ্চমাত্রার লবণ ও সোডার উপস্থিতি রয়েছে।আরো আছে নানা রাসায়নিক যৌগ।লেক ন্যাট্রনের গভীরতা ১০ ফুট।তাপমাত্রা ভয়াবহ রকমের বেশি।অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে লেকের আশপাশে এবং পানিতে প্রায়ই এমন সব মৃত পশুপাখির দেহ পাওয়া যায় যেগুলো অনেকটা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে।মাঝে মাঝে ফেমিঙ্গো বা অন্য প্রাণী পানিতে পড়ার সাথে সাথে মারা যায়।তাদের দেহের টিস্যুগুলো ক্যালসিয়ামে পরিণত হওয়ায় তারা ক্যালসিয়ামের মূর্তি হয়ে যায়। একে বলে ক্যালসিফিকেশন। বিজ্ঞানীরা আজো জানে না,কেন ফেমিঙ্গো পাখিগুলো লেকের পানিতে এইভাবে পড়ে।তবে সম্ভাব্য ব্যখ্যা হলো,লেকের পানিতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হলে সেটা ফেমিঙ্গো পাখিকে আকৃষ্ট করে।এর ফলে তারা পানিতে ঝাঁপ দেয়,যার পরিণতি হয় করুণ।পাখি গুলো হয়ে যায় মমি।লেকটির তীরজুড়ে ফেমিঙ্গো,স্টার্লিং,হর্নবিল,ঘুঘুসহ অনেক পাখির মৃতদেহ এমনভাবে পড়ে থাকে।দেখলে মনে হয় যেন তাদের মমি করে রাখা হয়েছে।এর পানি এতটাই ভয়ংকর যে,জীবন্ত মানুষকে ফেলে দেবার কিছুক্ষণের মধ্যে ঐ মানুষটিও পাখিদের মতো মমি হয়ে যাবে।করুণ পরিণতির কারণেই মূলত এটি ‘মমি লেক’ হিসেবে পরিচিত।প্রায় একহাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী লেকটি দেখতে আর দশটি সাধারণ লেকের মতো হলেও এর রয়েছে ভয়াবহ কিছু উপাদান।এর তলদেশের মাটিতে রযেছে সোডিয়াম কার্বনেট আর সোডিয়াম বাই কার্বনেট যা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা।অতিরিক্ত এই তাপমাত্রার কারণে লেকের পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে থাকে।এর পানির তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট । মাঝে মাঝে এটি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করে।এ ছাড়া এই লেকের পানির পিএইচ এর মাত্রা ৯-১০.৫ , যা সমুদ্রের পানির পিএইচ থেকেও অনেক গুন বেশি।লেক এলাকায় বার্ষিক মেঘের পরিমাণ ৪০০ মিলিলিটার।আর এই লেকের ক্ষারত্ব এমোনিয়ার কাছাকাছি।হ্রদটি বেশিরভাগ প্রাণীই এড়িয়ে চলে।কিন্তু এ রকম লবণাক্ত, উত্তপ্ত,ভয়ংকর পরিবেশেও জন্ম নেয় এমন কিছু অণুজীব,যাদের পুষ্টির উৎস হচ্ছে লবণ।খুবই উত্তপ্ত বলে এখানে কোনো বন্যপ্রাণীর বসবাস নেই।তবে কিছু বিশেষ প্রজাতির শৈবাল আর ফেমিঙ্গো পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হচ্ছে এই হ্রদ।অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হচ্ছে, পূর্ব আফ্রিকার দুই দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ফ্যামিঙ্গো পাখির একমাত্র আবাসস্থল বা জন্মস্থান হচ্ছে এই হ্রদ।লবণাক্ততা বাড়ার সাথে সাথে হ্রদে সায়ানোব্যকাটেরিয়া নামের শৈবালও জন্মাতে থাকে।ফেমিঙ্গো পাখিগুলো মূলত স্পিরুলিনা নামে নীলাভ-সবুজ এই শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে।আর এই হ্রদে তাদের বাচ্চাগুলো অন্য প্রাণী থেকে সুরক্ষিত থাকে।অন্য প্রাণী এ হ্রদের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।আশার কথা হচ্ছে লেকটি নিয়ে গবেষণা চলছে।বছরের কিছু কিছু সময় মৌসুমী ফসলও এখানে হয়।হ্রদটির পাশে ইওয়াসো কেনিয়া সীমান্তের এনজিরো নদীতে হাইড্রোইলেক্ট্রিক পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।তবে লেকটি পর্যটকদের জন্য এখনো নিরাপদ নয়।তাই যদি আপনি এই লবণাক্ত,ভয়ংকর সুন্দর লেকের পানিতে নামতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিজ দায়িত্বে যেতে হবে।তো বন্ধুরা আজকে এই ছিল ভিডিও টা আপনাদের জন্য।তো আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন আর যারা এখনো আমার চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করেননি,এরকম সত্যিকারের,বাস্তব চমকপ্রদ,রোমাঞ্চকর ঘটনা গুলো জানতে আমার চ্যানেলটিকে এখনই সাবস্ক্রাইব করে আমার পাশে থাকুন।আজ চলে যাচ্ছি,কিন্তু যাচ্ছি না আবার আসবো নতুন কোন বিষয় নিয়ে নতুন কোন ভিডিও নিয়ে আপনাদের কাছে।বন্ধুরা সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদ থাকবেন এই আশা নিয়ে আজকের ভিডিও শেষ করছি।আল্লাহ্-হাফেজ।আসসালামু আলাইকুম।

কোন মন্তব্য নেই

Goldmund থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.