হিটলারের সম্পর্কে চমকে দেয়া কিছু তথ্য।

হিটলারের সম্পর্কে চমকে দেয়া কিছু তথ্য।


এডলফ হিটলারকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম রাজনৈতিক নেতা ও ঘৃণ্যতম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়। জার্মানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার উত্থান ঘটে।একটি বিশেষ গোষ্ঠী ও মতাদর্শের নেতা ছিলেন তিনি,পরবর্তীতে এই মতাদর্শই ‘নাৎসি আন্দোলন’ হিসেবে রূপ লাভ করে।নেতা হিসেবে ঘৃণ্য হলেও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে ছিলেন অতুলনীয়।চমৎকারভাবে বক্তব্য দিতে পারতেন হিটলার। বিশেষ করে, তিনি যদি চাইতেন কোনো একটা ধারণা কোনো একজন মানুষের মগজে ঢুকিয়ে দিতে হবে তাহলে খুব চমৎকারভাবে বুঝিয়ে সেই ধারণায় প্রভাবিত করে ফেলতে পারতেন।এই ক্ষমতার উপস্থিতিতেই তার ঘৃণ্য কাজের জন্য অন্যান্য অনেক মানুষকে দলে আনতে পেরেছিলেন।তার ক্ষমতার চমৎকারিত্বের জন্যই পুরো দেশ জুড়ে ইহুদী নিধনের ঘৃণ্য উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল।একটা সময় ছিল যখন ‘হিটলার’ নামটিতে কোনো নেতিবাচকতা ছিল না।কিন্তু নাৎসি নেতা হিটলার তার জীবনে এত পরিমাণ ঘৃণ্য ও জঘন্য কাজ করেছেন যে পরবর্তীতে ‘হিটলার’ শব্দটিই ঘৃণ্য ও নেতিবাচক হিসেবে রূপ লাভ করেছে।কেউ এখন আর এই নামে নিজেদের সন্তানদের নাম রাখে না।তবে হিটলার নিজেও আর দশজনের মতোই মানুষ ছিলেন।তারও ছেলেবেলা আছে। তারও একগুচ্ছ ইতিহাস আছে। হিটলারের ‘হিটলার’ হয়ে উঠার আগের ইতিহাস, আর পরের ইতিহাসও আছে।আছে পারিবারিক ইতিহাস,আছে বংশগত ইতিহাস।হিটলারের বংশ সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায় না।তার কৃতকর্মের জন্য তার বংশধরদের ওপর চেপে আছে এক ভয়ানক কলংক।তবে এতসব ছাপিয়েও হিটলারের পরিবারে এমন কিছু ব্যাপার আছে যা মোটামুটি বিস্ময়কর।আগ্রাসী মনোভাব দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসকে যে ব্যক্তি বদলে দিয়েছেন তার নাম হিটলার।পুরো নাম অ্যাডলফ হিটলার।জার্মানিদের কাছে তিনি মহানায়ক হলেও বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করা হয়।কঠোর এই মানুষটির জীবন বড় বিচিত্র তথ্যে ভরপুর।অ্যাডলফ হিটলার সম্পর্কে বিভিন্ন সময় নানা কথা প্রকাশ পেয়েছে একগুয়েমি মনোভাব ও ডিক্টেটরশীপ মন মানষিকতার কারণে হিটলার অনেকের কাছেই ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আবার যারা একচ্ছত্র ক্ষমতাকে মান্য করেন তাদের কাছে হিটলার একজন আদর্শ ব্যক্তি। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় অ্যাডলফ হিটলার ৬ লক্ষ ইহুদি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন বলে শোনা যায়। তারপরও তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ একজন মানুষ।জার্মানিদের কাছে মহানায়ক হলেও বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে আখ্যায়িত অ্যাডলফ হিটলার। তার ইহুদি দমন উদ্যোগের জন্য তিনি একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত। এই কঠোর মানুষটির জীবন বড় বিচিত্র তথ্যে ভরপুর। যেমন ইহুদী বিদ্বেষী হলেও প্রেমে পড়েছিলেন ইহুদীর নারীর।যে হিটলার পৃথিবী থেকে সমস্ত ইহুদী নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন,সেই হিটলার নিজেই ছিলেন ইহুদীদের বংশধর।এখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত।মানুষের ডিএনএ টেস্ট করে তার সম্বন্ধে এমন সব তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে যা আগে কল্পনাও করা যেতো না।হিটলারের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে এবং তা নিয়ে গবেষণা করে একদল গবেষক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে হিটলার ইহুদী বংশধর ছিলেন।পূর্বপুরুষের ধর্ম বের করার জন্য ডিএনএ টেস্ট পর্যন্ত যেতে হবে কেন?তার জৈবিক দাদা হিসেবে যাকে ধারণা করা হয় তিনি নিজেই ইহুদী ছিলেন।বিজ্ঞানীদের করা ঐ গবেষণায় আরো একটি চমকপ্রদ বিষয় বেরিয়ে এসেছে। হিটলারের আগের পূর্বপুরুষ আফ্রিকার অধিবাসী ছিল। হ্যাঁ, হিটলার ইহুদী এবং আফ্রিকানদের খুব নিচু দরের মানুষ বলে মনে করতেন।নিজেকে সবসময় তাদের চেয়ে উঁচু ভাবতেন।আজকে যদি হিটলার বেঁচে থাকতেন তাহলে তার সম্বন্ধে এই গবেষণা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লেগে যেতো। [বি: দ্র: মানুষের পূর্বপুরুষের সুতা ধরে উপরের দিকে এগিয়ে গেলে তা অনেকগুলো পূর্বপুরুষ পেরিয়ে একসময় আফ্রিকায় গিয়ে ঠেকবে।তাহলে চলুন জেনে নেই তার সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য-১. ইহুদি তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন হিটলার: হিটলার নাকি ইহুদি বিদ্বেষী ছিলেন, কিন্তু অবাক বিষয় হল সেই হিটলারই স্কুলে পড়ার সময় এক ইহুদি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তার নাম ছিল স্টেফানি ইসাক। যদি মেয়েটিকে কখনো কিছু বলেননি। তবে ইসাককে দেখলেই তিনি দারুণ লজ্জাবোধ করতেন।২.হিটলার ধর্মযাজক হতে চেয়েছিলেন মাত্র ৪ বছর বয়সে সেই ইচ্ছাই দেখা দিয়েছিল হিটলারের মনে।এক শীতে সেই বয়সে একটি লেকে পড়ে যান তিনি। তাকে উদ্ধার করেন এক ধর্মযাজক। ঘটনাটি তার মনকে আলোড়িত করে। মনের কৃতজ্ঞতা আর ভালোলাগা থেকেই তিনি বড় হয়ে ধর্মযাজক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।৩.গাড়ি চালানো জানতেন না।হিটলার কখনো ড্রাইভিং শেখেননি।চেষ্টাও করেননি অনেকের ধারণা,তার মনে এক ধরনের ভয় কাজ করত।নিজের মানুষের সামনে যদি গাড়ি চালনায় দক্ষ না হতে পারেন,তবে তা সম্মানহানিকর।তবে নিজের বিশাল সেনাবাহিনীকে ব্যক্তিগত চালকের মাধ্যমে গাড়ি চালিয়েই নেতৃত্ব দিয়েছেন।৪. ধূমপানবিরোধী:তরুণ বয়সে ব্যাপক ধূমপান করলেও একপর্যায়ে তিনি এর বিরোধী হয়ে ওঠেন। সিগারেটের পেছনে অর্থের অপচয় হয় বলেই মনে করতেন।গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধকরণে অ্যান্টি-স্মোকিং ক্যাম্পেইনও করেছেন তিনি।৫.একটি অণ্ডকোষ: অনেকেই এ কথা বলে গেছেন যে, হিটলার উর্বরতাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধরত অবস্থায় আঘাত পেয়েছিলেন।সার্জারিতে চিকিৎসক তার একটি অণ্ডকোষ বের করে ফেলেন।তার জীবন বাঁচাতেই এ কাজটি করতে হয়।১৯১৬ সালে ব্যাটল অব সোমি-তে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
৬.যত গরমই লাগুক না কে তিনি জনসম্মুখে
কখনও তার ব্যবহৃত কোটটি খুলতেন না।
৭.১৯২৩ সালে নাজি প্রেস সেক্রেটারি ড .সেজুইক হিটলারকে ছোট গোঁফ স্বাভাবিকভাবে বড় করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন।গোঁফ বড় করার বিষয়ে
হিটলারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।প্রতিউত্তরে হিটলার বলেছিলেন,আমার গোঁফ নিয়ে উদ্বিগ্ন হইও না যদিও এই ছোট গোঁফ এখন ফ্যাশন না তবে পরবর্তীতে এটাই ফ্যাশন হয়ে যাবে।৮.হিটলারের শারীরিক ওজন ছিল ১৫৫ পাউন্ড আর উচ্চতায় ছিলেন ৫ ফিট ১০ ইঞ্চি।সামাজিক আচরণ
৯.যখন তিনি খেতে বসতেন তখন অপ্রাসঙ্গিক বা স্বাভাবিক গল্পগুজব করতেন।কিছু মুহূর্তের ব্যবধানেই তিনি তার জীবনের পথচলার ও অন্যান্য চলমান ঘটনার গল্প করতেন।গল্প বলার ধরণটি ছিল
বিরতিহীন।৯.তার আলোচনায় ঘুরেফিরে যে বিষয়টি তিনি উল্লেখ করতেন তা হলো,যখন আমি
সৈনিক ছিলাম,যখন আমি ভিয়েনায় ছিলাম,যখন আমি জেলে ছিলাম,যখন শুরুর দিকে দলের নেতা ছিলাম এই ধরনের।১০.যদি হিটলার ওয়াগনার বা অপেরা সম্বন্ধে কিছু বলতে শুরু করতেন কারও সাহস ছিল না তার কথার মাঝে কথা বলার।এমন কি শ্রোতারা একপর্যায়ে যদি ঝিমিয়েও পড়তেন তবুও তিনি কথা থামাতেন না।ব্যক্তিগত কিছু অভ্যাস১১.খেলাধূলা কিংবা কোন ধরনের
শরীরচর্চার ওপর হিটলারের কোন আকর্ষণ
ছিল না।তিনি এগুলো করতেন না।তবে
তিনি মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি করতেন।তিনি তার নিজ কক্ষে কর্ণার থেকে কর্ণার আড়াআড়িভাবে একই গতিতে হাঁটাহাঁটি করতেন।১২.হিটলারের হাতের লেখা ছিল একেবারে নিখুঁত।১৯৩৭ সালে বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক কার্ল জাং হিটলারের একটি লেখা দেখে
মন্তব্য করেন,এই হাতের লেখা দেখে আমাকে স্বীকার করতেই হয় যে এটা মেয়েলী প্রকৃতির। বিনোদন১৩.হিটলারের বিনোদনের জন্য তার অধীনস্থ কর্মচারীরা সঙ্গোপনে রাজবন্দীদের
নির্যাতন ও তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিওচিত্র দিয়ে চলচ্চিত্র বানাতেন।বলাই বাহুল্য,এ ধরনের চলচ্চিত্র বেশ উপভোগ করতেন তিনি।হিটলারের
নির্বাহী সহযোগী কর্মকর্তারা তার জন্য পর্নো ও চলচ্চিত্রও সংরক্ষণ করে রাখতেন।     তিনি ডিজনি ফ্যান ছিলেন।ডিজনিকে কে না পছন্দ করে? বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে হিটলারও কার্টুন ও অ্যানিমেটেড ফিল্ম পছন্দ করতেন। “Snow white and the Seven Dwarfs” তার সবচেয়ে প্রিয় ছবি ছিলো। ১৪.অ্যামেরিকান কলেজ ফুটবলে যে ধরনের মিউজিক ব্যবহার করা হয় সাধারণ আম -জনতার মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে হিটলার তার বক্তৃতার সময় সে ধরনের
মিউজিক ব্যবহার করতেন।অ্যামেরিকান ফুটবলের চিয়ারলিডাররা দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে কৌশল অনুসরণ করতো,সেই একই কৌশল অবলম্বন করে সভা - সমাবেশে ‘সিয়েগ হেইল বলে শ্লোগান দিয়ে দর্শকদের উজ্জীবিত করতেন হিটলার।১৫.হিটলার সার্কাস দেখতে পছন্দ করতেন।সার্কাসের কসরতকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিনয় হিটলারকে বেশি আনন্দ দিতো।১৯৩৩ সালে তিনি অনেকবার সার্কাস দেখেছেন বলে জানা যায়।সার্কাসের নারী কসরতকারীদের তিনি দামী
চকোলেট ও ফুল দিতেন।এমনকি মাঝে মাঝেই হিটলার তাদের নাম স্মরণ করতেন,তাদের পরিবার, তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পেশা নিয়ে উদ্বিগ্নও হতেন।
১৬.তিনি আদিমতা বা বন্যদের মতো অভিনয় ( আচরণ )মেয়েদের বিপদে পড়াকে কখনও
সমর্থন বা পছন্দ করতেন না।১৭.তিনি প্রায় রাতেই তার ব্যক্তিগত থিয়েটারে সিনেমা দেখতেন,বিশেষ করে যেগুলো জার্মান জনগণের কাছে নিষিদ্ধ ছিল।তিনি কমেডি সিনেমা বেশি পছন্দ করতেন।মাঝে মাঝে তিনি জিউস গায়িকাদের গান পছন্দ করতেন। কিন্তু গান শোনার পর তিনি সেগুলোকে আবার মন্দ হিসেবে আখ্যায়িত করতেন।তিনি জিপ্সি মিউজিক, ওয়াগনার,অপেরা, বিশেষ করে অ্যামেরিকান
কলেজের ফুটবল মার্চের গানগুলোর বন্দনা করতেন বেশ।অন্যান্য ১৮.উৎসাহ ,প্রেরণা পাওয়ার জন্য হিটলার সব সময় তার ডেস্কে ‘হেনরি ফোর্ড ’ র পট্রেইট রাখতেন।১৯.ছোটবেলায় হিটলার চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন।২০.হিটলারের মায়ের মৃত্যুর পর ও আর্ট স্কুল থেকে দ্বিতীয়বারের মত বিতাড়িত হওয়ার পর হিটলার ছিল একেবারেই গৃহহীন , আশ্রয়হীন।২১.হিটলার ছিলেন নিরামিষভোজী।
অন্যদিকে হিটলার দিনে দুই পাউন্ড পর্যন্ত
চকোলেট খেতে পারতো।২২.হিটলার যিনি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ না করেও জার্মানির চ্যান্সেলর হয়েছিলেন অথচ তিনি জন্ম নিয়েছিলেন অস্ট্রিয়ায়।২৩.অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন,হিটলার আসলে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।২৪.হিটলারের শারীরিক ওজন মূলত পুরোপুরি যথার্থ নয় মেডিকেলে শারীরিক চেকআপের সময় তিনি জামা কাপড় খুলতে বরাবরই ছিলেন নারাজ*২৫.৩০ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে স্ত্রী ইভা ব্রাউন এবং হিটলার একসাথেই আত্মহত্যা করেন।২৬.১৯৩৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য হিটলারকে মনোনীত করা হয়েছিল।২৭.হিটলার কখনও কোনো পারফিউম কিংবা সুগন্ধি ব্যবহার করতেন না।২৮.হিটলার নিজেকে যথেষ্ট সুদর্শন মনে করতেন, ভুগতেন আত্মতুষ্টিতে। তাই সর্বদা নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করতেন জনসম্মুখে। এমনকি হিটলারের পতনের অনেকটা সময় পরেও তার প্রেমিকা ইভা ব্রাউন সম্পর্কে জানতেন না অনেকেই। ২৯.আত্মহত্যার আগে হিটলার তার পোষা কুকুরকে সায়ানাইড পিল খাইয়ে মেরে ফেলেছিলেন, কুকুরটির পাঁচটি বাচ্চাকে খুন করেছিলেন গুলি করে।মৃত্যুর মাত্র ঘন্টা চল্লিশেক আগে প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।৩০.হিটলার যখন ছোট ছিলেন, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন মোটেই ভালো ছিল না। এক অস্ট্রিয়ান ইহুদী ডাক্তার বিনা পয়সায় তাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। হিটলার ইহুদী নিধনে নামলেও সেই ডাক্তার ও তার পরিবারকে রক্ষা করেছিলেন বলে জানা যায়। ডাক্তার সাহেবকে নাকি তিনি ভালো ইহুদী বলে ডাকতেন!৩১.হিটলার তার বোনকে প্রহার করতো।পলা হিটলার ছিলেন এডলফ হিটলারের বোন। হিটলার কখনোই মনে করতেন না যে পলার মাথায় বুদ্ধিমত্তা বলতে কিছু আছে। তাকে নির্বোধ বলে মনে করতেন। খুব কড়া নিয়ম-কানুন আরোপিত ছিল তার ওপর। বাবা মারা যাবার পর হিটলার তেমন কোনো খবরই রাখেনি তার বোনের। কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাকে চড়-থাপ্পরও খেতে হয়েছে হিটলারের হাতে। নাড়ির টান অনুভব করলে মাঝে মাঝে বছরে দুই-একবার দেখা করতেন পলার সঙ্গে। পলা কোমলভাবে কথা বলতেন, কিন্তু হিটলার ছিলেন তার প্রতি নির্মম। তবে হিটলারের বোন কখনো কল্পনাও করতে পারেননি তার দ্বারা এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হতে পারে।হিটলারের বোন নাৎসি কর্মকাণ্ড পছন্দ করতেন না। হিটলার নিজেও তাকে এসবে রাখতেন না। হিটলার মনে করতেন এমন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কাজ এর মতো মাথামোটা মেয়েকে দিয়ে হবে না। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে পলা মন থেকে নাৎসি কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করতেন। আরো অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে,নাৎসিদের কোনো অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেনি পলা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি হাসপাতালের সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন পলা।যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন অপরাধীর পরিবারের সদস্য হিসেবে তাকে জেরা করা হয়। জেরা অল্প সময়ের ভেতরেই শেষ হয়ে যায় এবং সে কোনো অপরাধে অপরাধী নয় বলে গ্রাহ্য হয়। এর পরবর্তীতে তার নামের শেষের অংশ ‘হিটলার’ ফেলে দিয়ে ‘পলা উল্‌ফ’ করে নেন নিজের নাম।৩২.হিটলারের ভাইপো লড়েছেন হিটলারের বিরুদ্ধে। হিটলারের ভাইপো উইলিয়াম প্যাট্রিক হিটলার ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে ইংল্যান্ডের নাগরিক। মাঝে মাঝে জার্মানিতে অবস্থান করলেও তার সবকিছু ইংল্যান্ড কেন্দ্রিক। কিন্তু পরবর্তীতে হিটলার তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করার দাবি করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উইলিয়াম জার্মানি থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ঠাঁই নেন।এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে উইলিয়াম ইউএস নৌবাহিনীতে যোগ দেবার জন্য মনোনীত হয়ে যান। তখন যুদ্ধ চলমান। তিনি গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করেন। চাচার বিরুদ্ধে ভাইপোর লড়াই! তার অবদানের জন্য পরবর্তীতে তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃতও করা হয়।৩৩.জীবিত পূর্বপুরুষেরা পাল্টে ফেলেছিল তাদের নাম। যুদ্ধের পর হিটলার বংশের যারা জীবিত ছিল তাদের সকলে নিজেদের নাম পালটে দিয়েছিল। কারণ হিটলার শব্দটির প্রতি মানুষের এত ঘৃণা ছিল যে এই নামে পরিচয় দিতেও তাদের লজ্জা হতো। তার বোন ‘পলা হিটলার’ থেকে নাম পালটে হয়েছেন ‘পলা উল্‌ফ’। ভাইপো উইলিয়াম প্যাট্রিক হিটলার নিজের নাম পালটে হয়ে যান ‘উইলিয়াম স্টুয়ার্ট হিউস্টন’।তার সন্তান সন্ততির নামও স্টুয়ার্ট হিউস্টন দিয়েই রাখেন।৩৪.ছোটবেলাতেই মারা যায় চার ভাইবোন।এডলফের বাবা-মায়ের মোট ছয়টি সন্তান ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এডলফ ও তার বোন পলা-ই পূর্ণবয়স্ক হতে পেরেছেন।বাকি চার জন শিশুকালেই মারা যায়।এডলফের জন্মের আগে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুস্তাভ এবং আইডা মৃত্যুবরণ করে।হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত হয়ে তার আরেকটি ভাই অট্টো মৃত্যুবরণ করেন।৬ বছর বয়সে এডমন্ড নামে আরেকটি ভাই মৃত্যুবরণ করে ১৯০০ সালে।ঐ সময়ে শিশুমৃত্যুর হার বেশি ছিল। কিন্তু তার পরেও এক দম্পতির চার চারটি সন্তান মারা যাওয়া বিরলই ছিল সে সময়ে।৩৫.হিটলারের সম্ভবত একটি ছেলে সন্তান ছিল।১৯৪৫ সালে হিটলার নিঃসন্তান হিসেবেই মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু হিটলারের কিছু ঘটনা, ছবি ও যাতায়াত সম্পর্কে গবেষণা করে কেউ কেউ দাবি করছেন, তার সম্ভবত একটি জারজ ছেলে সন্তান ছিল। হিটলার যখন জার্মান সেনাবাহিনীতে ছিলেন, তখন এক ফরাসী মেয়ের দেখা পান। মেয়েটির নাম ছিল লবোজোয়ি শার্লট। তখন শার্লটের বয়স ছিল ১৬। তার সাথে কয়েক বছর সময় পার করেছিলেন হিটলার। শার্লটের একটি ছেলে সন্তান হয়, নাম জ্যা মারি লরেট।লরেট ১৯৪৮ সালে তার মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু জানতে পারেননি। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে তথ্য জানতে পারেন এবং জন্মের সময়কাল মিলিয়ে দেখেন সম্ভাবনা আছে। তিনি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন হিটলার তার পিতা। Your Father’s Name Was Hitler নামে একটি আত্মজীবনীমূলক বইও লিখেছিলেন মৃত্যুর চার বছর আগে। ফ্রান্স ও জার্মানির গবেষকরা গবেষণা করে এর সত্যতার পক্ষে প্রমাণও পেয়েছেন। এটা নিয়ে বেশ মাতামাতিও হয়েছে। তবে এসব রগরগে খবরে ঘটনার চেয়ে রঙচঙ হয় বেশি। এখানেও হয়েছিল তা।৩৬. সবসময় মায়ের ছবি সাথে রাখতেন হিটলার। এডলফ হিটলার তার বাবার উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না। পরিণত বয়সে বাবার খুব একটা খোঁজখবর রাখেননি হিটলার। কিন্তু মায়ের প্রতি ছিল ভিন্নরকম টান। বাবার মৃত্যুর পর অনেক দেখাশোনা করেছেন মায়ের। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আন্তরিকতা অব্যাহত ছিল তার। মা মারা যাওয়ার পর তার মন খুব ব্যথিত হয়। এরপর থেকে সবসময় মায়ের ছবি সাথে রেখে চলেছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছবি বহন করেছিলেন তিনি। কখনো বাদ যায়নি। এ যেন পাথরের ভেতর ফুটে উঠা একটি ফুলেল মন।
৩৭.তিনি বক্তৃতার চর্চা করার সময় ছবি তুলে রাখতেন। তিনি ছিলেন একজন অনন্য বক্তা। তিনি নিজের ছবি তোলার প্রতি আবিষ্ট ছিলেন। তাই বক্তৃতার  করার সময়  ফটোগ্রাফার হাইনরিখ হফম্যানকে দিয়ে  সেই গুলোর ছবি তুলে রাখতেন  যাতে তিনি দেখতে পারেন যে তিনি কতোটা আতঙ্কিত করতে পারেন। পরবর্তীতে ছবিগুলো ধ্বংস করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি কিন্তু হফমেন এগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন বলে মানুষ সেগুলো দেখতে পেরেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Goldmund থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.