হিটলার বেঁচে আছে, ১১৮ বছরের বৃদ্ধের দাবি আমিই হিটলার।
হিটলার বেঁচে আছে, ১১৮ বছরের বৃদ্ধের দাবি আমিই হিটলার।
শিরোনাম দেখেই নিশ্চয়ই ভ্রূকুটি কুঁচকে গেছে! রীতিমতো ভিমড়ি খাওয়ার মতোই খবর। চমকে যাবেন না ভিমরি খাবেন না আমি আজকে এই ভিডিওতে বাস্তবিক কিছু প্রমান সহ আপনাদের মাঝে তুলে ধরব আসলেই কি হিটলার তখন মারা গিয়েছিল বা আত্মহত্যা করেছিল কিনা?আর তাই অনুরোধ করছি ভিডিও টা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য।ভিডিওটা দেখার পর আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।এখানে ছোট্ট করে একটা কথা বলি, ইতিহাসের সত্যি ঘটনা গুলির সবকিছুই কি আমরা সঠিক ভাবে জানি? আমি বলব জানিনা।আমি শুধু বলবো আমরা ততটুকু জানি যতোটুকু আমাদের জানানো হয়। অনেক সময় সত্য ঘটনা গুলো লোক চক্ষুর অন্তরালে ঢাকা দেওয়া হয় ইতিহাসের পাতা থেকে। আর ইতিহাস লেখা হয় জয়ীদের হাত দিয়ে পরাজিতদের ইতিহাস লেখার কোন অধিকার নেই। আমরা সবাই জানি আডলফ হিটলার অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফিউরার ছিলেন।১৯৪৫ সালে যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে হিটলার বার্লিনেই ছিলেন। রেড আর্মি যখন বার্লিন প্রায় দখল করে নিচ্ছিল সে রকম একটা সময়ে ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তিনি ফিউরারবাংকারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন হিটলার। এ কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে। এই তথ্যকে মেনে নিয়েছেন জার্মানরাও।যে হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বার্লিনের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে এত কাল আমরা জেনে এসেছি, তবে তা মিথ্যে? এমনকি হিটলারের যৌথবাহিনীর কাছে ধরা দেবেন না বলে সায়ানাইড খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন হিটলারের স্ত্রী ইভা ব্রাউন- এটাও মিথ্যে!যখন সবাই ভেবেছে তারা মৃত, তখন এই যুগল ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে! পিলে চমকে দেওয়ার মতো খবরটার দাবীদার আবেল বাস্তি নামের একজন ইতিহাসবিদ। হিটলারের নির্বাসন নিয়ে লেখা তার বই “Hitler in Exile” (“El exilio de Hitler”)-এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে আর্জেন্টিনায়। সেখানেই রয়েছে বিস্ফোরক সব তথ্য।রাশিয়ারস্পুটনিক নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘হিটলার কিছুতেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ধরা দেবেন না, পালিয়ে যাবেন- এই মর্মে চুক্তি হয়েছিল আমেরিকার সাথে। একই ব্যাপার প্রযোজ্য ছিল কয়েকজন বিজ্ঞানী, আর্মি এবং গুপ্তচরদের জন্যও।’ব্রিটেনের বিখ্যাত নিউজপোর্টাল হাফিংটন পোস্ট এই ইতিহাসবিদকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, সেই বাংকার থেকে সুড়ঙ্গপথে গোপনে হিটলার পৌঁছে যান টেম্পেলহফ বিমানবন্দরে। সেখানে তার জন্য আগেই প্রস্তুত করা ছিল একটি হেলিকপ্টার। সেটিতে চড়ে তিনি যান স্পেনে। তারপর সেখান থেকে হিটলার ক্যানারী আইল্যান্ডে পৌঁছান, সেখান থেকে একটি সাবমেরিন তাকে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনায়। প্রায় এক যুগ ধরে আর্জেন্টিনায় থাকার পর প্যারাগুয়েতে যান হিটলার। প্যারাগুয়েতে তখন ক্ষমতায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট আলফ্রেডো স্ট্রোয়েসনার, যার ছিল জার্মান শেকড়! বাস্তির মতে, প্যারাগুয়েতে হিটলার মারা যান ১৯৭১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি।বাস্তি তার বইয়ে প্রাসঙ্গিক এফবিআইয়ের নথিপত্রও লিপিবদ্ধ করেছেন বেশ কয়েকটি। যেমন একটিতে লেখা আছে,‘আর্জেন্টিনা যে হিটলারের গন্তব্যে পরিণত হয়েছিল, এই ব্যাপারে আর্জেন্টিনা বরাবরই নিশ্চুপ ছিল। হয় হিটলার বার্লিন থেকে আর্জেন্টিনার ৭৩৭৫ মাইল দূরত্ব আকাশপথে পাড়ি দিয়েছিলেন, যেটা বানানোই হয়েছিল এই উদ্দেশ্যে, কিংবা একটি বিশেষ সাবমেরিনের একজন যাত্রী হয়ে।’এদিকে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা বব বিয়ারও বলছেন একই কথা। গত বছরের জানুয়ারিতেই History চ্যানেলের একটি সিরিজ প্রচারিত হয় ‘Hunting Hitler’ নামে। বিয়ার এবং তার টিম ৭০০ পৃষ্ঠার একটি গোপন নথিপত্র নিয়ে এনালাইসিস করেন, যেখান থেকে একটি উদ্ধৃতি উদ্ধৃত করেছিলেন, ‘জার্মানিতে আমেরিকান আর্মি হিটলারের দেহাবশেষ চিহ্নিত করতে পারেনি, এমনকি কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি যে হিটলার মারা গেছেন।’ স্পুটনিক নিউজ লিখেছে, বিয়ারের টিম এই নথিপত্রের উপর ভিত্তি করে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংকার থেকে টেম্পেলহফ বিমানবন্দর পর্যন্ত টানেলের সন্ধান পেয়েছে!হিটলারের মৃত্যু নিয়ে বরাবরই ধোঁয়াশা ছিল আন্তর্জাতিক মহলে। রাশিয়া ২০০০ সালে হিটলারের আত্মহত্যার প্রমাণস্বরূপ গুলিবিদ্ধ যে করোটি মস্কোতে জনসমক্ষে প্রদর্শন করে, আমেরিকান গবেষকরা সেটির ডিএনএ পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন এটি একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার, হিটলারের নয়! আর ইভা ব্রাউনের শেষ পরিণতি? বাস্তি জানাচ্ছেন, ইভা ব্রাউন বেঁচে ছিলেন আরও অনেক দিন। হিটলারের মৃত্যুর পর প্যারাগুয়ে থেকে আর্জেন্টিনায় চলে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ইভা ব্রাউনের বয়স ৯০ বছর হওয়ার পর তার গতিবিধি হারিয়ে ফেলেন বাস্তি।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ
হিটলার আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু কিভাবে করেছেন তা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। অনেকের মতে তিনি সায়নাইড খাননি,কিন্তু পিস্তল মুখে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার স্ত্রী ইভা ব্রাউন সায়নাইড খেয়েছে। আবার অনেকের ধারণা তিনি সায়নাইড খেয়ে মুখে পিস্তল ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু আসলে কিভাবে মারা গিয়েছেন সেটা নিয়ে কেউ নিশ্চিত ছিল না। যেহেতু তারা মারা যাওয়ার পর তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল, তাই পরবর্তীতে বাঙ্কারের ভেতরে ঢুকে দুটো পোড়া মৃতদেহ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে এই বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৪৬ সালে যখন একটা কঙ্কালের খুলি পাওয়া যায় যার মাঝে একটি গুলির ফুটা ছিল।
কঙ্কালের খুলিটি মহিলার
পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা নাকি সায়নাইড খেয়ে আত্মহত্যা – এই বিতর্কের অবসান ঘটেছিল ১৯৪৬ সালে একটি কঙ্কালের খুলি পাওয়ার পর যার মাঝে ফুটা ছিল। কিন্তু এই বিতর্কের শেষ তখনো পুরোপুরি ঘটেনি। ১৯৪৬ সালে Führerbunker-এ যে খুলিটি পাওয়া যায় তা হিটলারের ভেবে খুলিটি রাশিয়ান আর্কাইভে রাখা হয়। খুলির পাশাপাশি চোয়ালের হাঁড় ও দাঁতের কিছু অংশ পাওয়া যায়। খুলিতে গুলি লাগার চিহ্নও ছিল। ২০০৯ সালে কানেক্টিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষক খুলিটি নিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় পাওয়া যায় যে হিটলারের খুলি হিসেবে যেটি আর্কাইভে রাখা ছিল সেটি হিটলারের নয়, এমনকি কোন পুরুষেরও নয়। বরং ৪০ বছরের চেয়ে কম বয়সী কোন এক মহিলার খুলি ছিল সেটি। যদিও চোয়ালের হাঁড় কিংবা অন্যান্য অংশগুলো কখনো পরীক্ষা করা হয়নি।
এফবিআই রিপোর্ট
হিটলারের আত্মহত্যা নিয়ে শুরু থেকেই সকলের মাঝে নানা গুঞ্জন ছিল। পরবর্তীতে সেই গুজবের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে এফবিআই থেকেই একটি পরিপূর্ণ তদন্ত করা হয়। তদন্তটি ১৯৪৫ সালে অক্টোবরে এফবিআই-এর ডিরেক্টর J. Edgar Hoover এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিপোর্টে কি লেখা ছিল সেটা অবাক করার মতই। রিপোর্টে লেখা ছিল যে হিটলার মারা যাননি বরং পালিয়ে গিয়েছিলেন। হিটলার পালিয়ে আর্জেন্টিনায় চলে যান। এমনকি রিপোর্টে আরো লেখা ছিল তিনি সাবমেরিনে করে কোথায় গিয়ে থেমেছিলেন, কোন রেস্টুরেন্টে খেয়েছেন আর কোথায় থেকেছেন। এ সকল কিছুই রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়।
জোসেফ স্টালিনের বক্তব্য
যুদ্ধে নাৎসি জার্মানিদের বিপক্ষে রাশিয়ার নেতৃত্ব দেন জোসেফ স্টালিন। বার্লিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের আক্রমণই ছিল মূলত হিটলারের আত্মহত্যার কারণ। ১৯৫৬ সালে পটসডামের এক কনফারেন্সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান জোসেফ স্টালিনকে প্রশ্ন করেন হিটলার বেঁচে আছে কিনা। স্টালিন এর উত্তর দেন যে হিটলার মারা যাননি, বেঁচে আছে। স্টালিনের এই কথার উপরে ভিত্তি করে পরবর্তীতে আবার হিটলারের মৃত্যু রহস্য নিয়ে আবার নতুন করে তদন্ত শুরু হয়, যদিও ১৯৫৬ সালের আগ পর্যন্ত হিটলারকে অফিসিয়ালি মৃত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
হিটলারের বডি ডাবল
বিখ্যাত অনেক ব্যক্তিরাই শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য নিজের মত দেখতে বডি ডাবল রাখেন। বডি ডাবল রাখার কারণ- যদি কেউ কোন হামলাও করে তবে যেন আসল ব্যক্তির কোন ক্ষতি না হয়। সেরকম হিটলারেরও বেশ কিছু ডাবল ছিল। হিটলার তার নিজের ডাবলদের বেশ পছন্দ করতেন। অনেকে ধারণা করে যে ওইদিনে হিটলার নয়, বরং হিটলারের কোন বডি ডাবল মারা গিয়েছিল। আর এই আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে তিনি সকলের চোখে ধুলো দিতে চেয়েছিলেন। হিটলারের সব ডাবলদের মাঝে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল গুস্তাভ ওয়েলার। ১৯৪৫ সালে গুস্তাভ ওয়েলারকে বার্লিনে মৃত পাওয়া যায়। কিছুদিনের জন্য তাকে সত্যিকারের হিটলার বলেও ভুল করেছিলেন অনেকে।
গুস্তাভ ওয়েলারঃ হিটলারের বডি ডাবলদের মধ্যে একজন
নাৎসিদের দেখা আর্জেন্টিনার ইউ-বোট রিফিউজি
বেশ কয়েকজন নাৎসি নেতা যুদ্ধ শেষে ইউ-বোট (জার্মান সাবমেরিন) করে আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জোসেফ মেঙ্গেলে ও অ্যাডলফ আইখম্যান। পালিয়ে যাওয়ার পরে নেতারা সেখানে অনেক বছর ধরে লুকিয়ে ছিলেন। যদিও নাৎসি বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার ফলে আর্জেন্টিনাকে বেশ চাপের মুখে থাকতে হয়েছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনার সরকার কখনোই খোলাখুলিভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেনি। Grey Wolf: The Escape of Adolf Hitler বইয়ের মতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন ও তার স্ত্রী এভিটা হিটলারকে লুকিয়ে থাকার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, কারণ তারা নাৎসি বাহিনীর কাছ থেকে অনেক বছর ধরে আর্থিক সহযোগীতা পেয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে হিটলার
দক্ষিণ আমেরিকায় থাকাকালীন সময়ে অনেক ব্যক্তিই হিটলারকে দেখেছেন কিংবা তাকে চিনতেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন Grey Wolf: Adolf Hitler Escape To Argentina ডকুমেন্টারিটি বানানোর সময়। ডকুমেন্টারি শেষে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়। তাদের মাঝে দুইজন ব্যক্তি মৃত্যুর হুমকিও পান অজানা সূত্র থেকে। সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তি ও ছোট ছোট নানা তথ্য যোগাড় করে একসাথে জোড়া লাগিয়ে জানা যায় যে ইনালকোতে এক ম্যানশনে হিটলার যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বসবাস করতেন। ১৯৫৪ সালে তার স্ত্রী ইভা ব্রাউনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ইভা তাদের মেয়ে আরসালাকে নিয়ে নিউকেন-এ চলে যান। এবং এই সাক্ষ্য প্রদানকারীদের মতে ১৯৬২ সালে ৭৩ বছর বয়সে হিটলার মারা যান।
Hitler in Brazil – His Life and His Death বইয়ের লেখক Simoni Renee Guerreiro Dias প্যারাগুয়েতে তোলা হিটলারের এই ছবিটি প্রকাশ করে। যদিও ছবিটির বাজে অবস্থার কারণে বোঝা যায় না আদৌ কার ছবি এটি তবুও অনেকে ছবির ব্যক্তিটির সাথে হিটলারের মিল খুঁজে পান।
বিশ্বযুদ্ধের পরে অনেকেই হিটলারকে দেখার দাবী করলেও সেগুলো অধিকাংশই ছিল ভুয়া। তবে সিআই এর ফাঁস হওয়া একটি গোপন নথিপত্র সামান্য কৌতূহলের উদ্রেক করে মানুষের মনে। সেই গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছে এজেন্সিকে বলা হয়েছিল কলম্বিয়াতে প্রাক্তন এসএস সদস্যদের যে কমিউনিটি আছে,সেখানে হিটলারের মত চেহারার একজন মানুষ বাস করেন।
কলম্বিয়ায় হিটলার
ফিলিপ সাইত্রন নামের একজন প্রাক্তন এসএস অফিসার এই দাবীটি করেন। তার মতে, কলম্বিয়াতে ১৯৫০ সাল থেকে এডলফ স্কাটলেমেয়ার ছদ্মনামে টুনজা নামক প্রাক্তন নাৎসি কমিউনিটিতে হিটলার বাস করে আসছেন। সেই লোকটিকে ফুয়েরার বলে ডাকা হয় এবং তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি সেনাবাহিনীর ট্রেডমার্ক স্যালুট ও দেওয়া হয়। তার কথার প্রমাণস্বরূপ সাইত্রন একটি ছবি দেখান যেখানে তিনি একটি লোকের পাশে বসে আছেন এবং সেই লোকটির চেহারা হিটলারের সাথে প্রচণ্ডভাবে মিলে যায়।
পরবর্তীতে সাইত্রন আরো বলেন যে, হিটলার ১৯৫৫ সালে জার্মানি ত্যাগ করে আর্জেন্টিনা চলে গিয়েছেন।
প্রতিদিন এমন অসংখ্য ভুয়া গুজব শুনতে পাওয়া সিআই এজেন্টরা সাইত্রনের দাবিকে গুরুতরভাবে না নিয়ে এই দাবির কথা তাদের ঊর্ধ্বতন অফিসারকে বলেন এবং সাথে ছবিটিও পাঠিয়ে দেন।
তবে সাইত্রনের দাবি নিয়ে ভালোভাবে তদন্ত করার আগেই তথাকথিত ফুয়েরার নামের লোকটি আর্জেন্টিনা পালিয়ে যাওয়ায় সিআইএ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করে দেয়।
আবার আলোচনায়
কলম্বিয়ান সাংবাদিক জোস কারডেনাস নব্বই সালে প্রকাশ হওয়া সিআইএর ফুয়েরার সংক্রান্ত সেই ফাইলটির ছবি সাম্প্রতিককালে টুইট করলে এই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে।
সিআই এর এই ফাইলটিতে বলা হয় যে সাইত্রনের মতে, তিনি যখন একটা রেলরোড কোম্পানির জন্য কাজ করতে টুনজা শহরে যান, সেখানে তাকে ‘হিটলারের সাথে অনেকটা মিল আছে’ এমন চেহারার একজন লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ‘আবাসিক কলোনি’ নামক জায়গাতে এই রহস্যময় লোকটির সাথে সাইত্রনের দেখা হয় এবং ওই আবাসিক কলোনি এলাকাটি সাধারণত প্রাক্তন জার্মান নাৎসিদের আবাসস্থল ছিল। সেই জার্মান লোকটিকে অন্য প্রাক্তন এসএস সৈন্যরা অতীতের নাৎসিযুগের মত করেই সম্মান করত।
যদিও এই ফাইল এর লেখক সিআই এজেন্ট একে ফরমাল ভাবে না লিখে বরং সে সময়ের হিটলারকে নিয়ে বাজারে প্রচলিত অন্যান্য কাল্পনিক গুজবেরই একটি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে ১৯৫৫ সালে যখন সাইম্লডি নামক গুপ্ত নাম সম্বলিত আর একজন ব্যক্তি যখন সাইত্রনের মত একই কথা বলেন, তখন কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই সাইম্লডি লোকটা সাইত্রনের পরিচিত ছিল এব সে সাইত্রনকে তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে।
আরেকজন সাক্ষী
সাইম্লডির মতে সে যখন ভেনেজুয়েলাতে ডাচ রাজকীয় নৌবাহিনীর অধীনে কাজ করত তখন হিটলারের মত চেহারার একটি লোককে দেখে সেখানে।
সাইত্রনের মত সাইম্লডিও তথাকথিত হিটলারের সাথে তোলা একটি ছবি প্রমাণ হিসেবে দেখায় এবং ছবিটির পিছনে ঐ লোকটির নাম এডলফ স্কাটলেমেয়ার নামে লেখা ছিল। সাইম্লডি আরো জানায় যে ছবির ঐ হিটলারের মত লোকটা ১৯৫৫ সালে আর্জেন্টিনা পালিয়ে গিয়েছে।
হিটলারের আসলে কি হয়েছিল
অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতে ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল সকালে হিটলার বান্ধবী ইভাসহ নিজের বাংকারে আত্মহত্যা করেন এবং সেদিন বিকালে তাদের লাশকে বাইরে বাগানে নিয়ে এসে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে হিটলার আত্মহত্যা করেননি, বরং পালিয়ে গিয়েছিলেন।
বার্লিনে অস্ত্র সমর্পণের অনুষ্ঠানে মার্শাল জিয়রজি ঝুকো যখন বলেন যে ‘হিটলার হয়তোবা শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যেতে পারেন’, তখন অনুসন্ধানীরা আরো বেশি হিটলারের বেঁচে থাকার কাহিনী বিশ্বাস করে এবং হিটলারকে খুজতে থাকে। এই খোঁজাখুঁজিতে সবচেয়ে বেশে লেগে ছিলেন জেরারড উইলিয়ামস এবং সিমন ডাস্টন নামের দুইজন ব্রিটিশ লেখক।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
২০১১ সালে তারা ‘গ্রে উলফ: দি এস্কেপ অফ এডলফ’ নামের বইয়ে লেখেন যে হিটলার এবং ইভা দুজনেই তাদের ‘বডি ডাবল’কে ব্যবহার করে বিষ খাওয়ার নাটক প্রচার করে এবং গোপনে প্লেনে করে ডেনমার্ক চলে যায়। সেখান থেকে তারা জার্মানি চলে আসে এবং পরবর্তীতে স্পেনের শাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কো তাদের ক্যানারি আইসল্যান্ডে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ক্যানারি দ্বীপ থেকে ইভা ও হিটলার দম্পতি আবার নৌকায় করে জার্মানি চলে যান এবং সাধারণভাবে বসবাস করতে থাকেন। জেরারড উইলিয়ামস এবং সিমন ডাস্টনের মতে এই দম্পতির দু’টি বাচ্চা হয় এবং হিটলার পরিণত বয়সেই মারা যান।
তবে আর্জেন্টিনার আরেকজন লেখক এবেল বাস্তির মতে হিটলার এবং ইভা বোটে নয় বরং সাবমেরিনে করে ক্যানারি আইল্যান্ডে যান এবং হিটলার ১৯৭১ সালে মারা যান দক্ষিণ আমেরিকাতে। তাকে একটি গোপন বাংকারে কবর দেওয়া হয় এবং সেই জায়গার ওপর এখন একটি হোটেল আছে।
পরবর্তীতে সাবেক সিআইএ অফিসার বব বের এবং টিম কেনেডি হিস্টোরি চ্যানেলে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের মতে হিটলার আত্মহত্যা নয় বরং পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই দুজন সাবেক অফিসার হিটলারের বাংকারের গোপন পাঁচ নাম্বার পালানোর পথটি আবিষ্কার করেন যা এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। এই নতুনভাবে আবিষ্কৃত পালানোর রাস্তাটি হিটলারের পালিয়ে যাওয়া এবং গোপনে বেঁচে থাকার ধারণাকে আরো জোরদার করে। তাদের ধারণা হিটলার আত্মগোপন করে আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা চিন্তা করতেন।
এতবছর পরে হিটলারের মৃত্যু কিংবা এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সঠিক ধারণা করা সত্যিই অসম্ভব, তাই অনুমান করা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নেই।
কিন্তু সম্প্রতি আর্জেন্তিনার ওই বৃদ্ধের দাবি নতুন করে ভাবাচ্ছে, ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদৌ কি মৃত্যু হয়েছিল হিটলারের?বয়স মাত্র ১২৮ বছর! মানুষের বেঁচে থাকার গড় আয়ুর থেকে অনেকটাই বেশি। কিন্তু হারমান গুটেনবার্গ শুধু বহাল তবিয়তেই রয়েছেন এমনটা নয়, তার এক দাবি ঘিরে আপাতত সরগরম দক্ষিণ আমেরিকা-সহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ। আর্জেন্তিনার সালতার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের দাবি, তিনিই অ্যাডলফ হিটলার! এল প্যাট্রিওটা নামের একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে হারমান গুটেনবার্গ নামে পরিচিত ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, ১৯৪৫ সালের বিপর্যয়ের পর তিনি আর্জেন্তিনায় চলে আসেন। আত্মগোপন করতে নিজের নাম বদলে নেন। জার্মান গুপ্তচরেরা হারমান গুটেনবার্গের নামে পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়। এবেল বাস্তির লেখা ‘হিটলার ইন একজাইল’ (নির্বাসনে হিটলার) নামে একটি বই প্রকাশিত হয়।
ওই বইটিতেও দাবি করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর, হিটলার আর্জেন্তিনায় চলে আসেন এবং সেখানে দশ বছর আত্মগোপন করে থাকেন। এর পর তিনি প্যারাগুয়ে চলে যান। তবে এবেল বাস্তির লেখা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১-এর ৩ ফেব্রুয়ারি সে দেশেই মৃত্যু হয় হিটলারের। এফবিআই-এর প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও দাবি করা হয় যে, হিটলার মরেননি, তিনি আর্জেন্তিনায় পালিয়ে যান। রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক এক প্রতিবেদনে বলছে, আর্জেন্টাইন বৃদ্ধের আরও দাবি, দীর্ঘ ৭০ বছর তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। এই সময় তিনি ইসরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ দিন। বৃদ্ধের কথায়, সে জমানায় মোসাদ-এর কাজ ছিল যুদ্ধাপরাধী নাৎসি বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের খুঁজে বের করা। ১৯৬০ সালে নাৎসি বাহিনীর লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল অ্যাডলফ এইচমানের গ্রেফতার মোসাদ-এর সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ।
কিন্তু এই বয়সে পৌঁছে মানুষের স্মৃতিশক্তি কতটা নির্ভরযোগ্য? গুটেনবার্গের এসব দাবিকে প্রলাপ বলেই মনে করছেন অনেকে। এমনকি বৃদ্ধের স্ত্রী ৫৫ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা মার্টিনেজেরও দাবি, তার স্বামী অ্যালঝাইমার’স-এর শিকার। স্মৃতিভ্রংশের ফলেই এ সব বলছেন গুটেনবার্গ। অ্যাঞ্জেলা আরও বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত কখনও এই বিষয়ে কোনও কথা বলেননি গুটেনবার্গ। তবে তার বিশ্বাস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুটেনবার্গ হয়তো নাৎসি বাহিনীতেই ছিলেন। সে সময় ইহুদিদের প্রতি হওয়া বর্বরতায়, নাৎসি বাহিনীর কৃতকর্মে তিনি আজ অনুতপ্ত। তাই ইদানীং এই সব কথা বলছেন।
অ্যাঞ্জেলার ধারণা যাই হোক না কেন, গুটেনবার্গ যখন নিজেকে হিটলার বলে দাবি করে একের পর এক নানা দাবি, তথ্য সামনে আনছেন, তখন কিছুটা কাকতালীয় ভাবেই আর্জেন্টিনার বুয়েনেস আইরেসের একটি বাড়ির গুপ্ত কুঠুরির মধ্যে থেকে সন্ধান মিলেছে নাৎসিদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ভাণ্ডার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন হিটলার। তবে অনেক ইতিহাসবিদ এটাও মনে করেন যে, সেই সময় আর্জেন্টিনায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। এই মতামতের পক্ষে একাধিক প্রমাণ এবং যুক্তিও সামনে এনেছেন তারা।
তবে আর্জেন্টিনার এই ১২৮ বছরের বৃদ্ধর বক্তব্য সত্যি না অ্যালঝাইমার’স-এ আক্রান্ত মানুষের প্রলাপ, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। হিটলার বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স ১২৮ বছরই হতো। তবে অ্যালঝাইমার’স-এ আক্রান্ত একজন বৃদ্ধ কী করে ৭০ বছর আগের এবং তার পরবর্তী সময়ের সব তথ্য দিচ্ছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই! বৃদ্ধের শেষ ইচ্ছে, তিনি তার (অ্যাডলফ হিটলারের) ‘আত্মজীবনী’ লিখবেন। তার বিশ্বাস, এই আত্মজীবনী বিশ্বের মানুষের কাছে হিটলার সম্পর্কে অনেক ধারণা পাল্টে দেবে। মানুষ চিনবে এক অচেনা, নতুন হিটলারকে।
তবে আর্জেন্টিনার এই ১২৮ বছরের বৃদ্ধর বক্তব্য সত্যি না অ্যালঝাইমার’স-এ আক্রান্ত মানুষের প্রলাপ, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। হিটলার বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স ১২৮ বছরই হতো। তবে অ্যালঝাইমার’স-এ আক্রান্ত একজন বৃদ্ধ কী করে ৭০ বছর আগের এবং তার পরবর্তী সময়ের সব তথ্য দিচ্ছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই! বৃদ্ধের শেষ ইচ্ছে, তিনি তার (অ্যাডলফ হিটলারের) ‘আত্মজীবনী’ লিখবেন। তার বিশ্বাস, এই আত্মজীবনী বিশ্বের মানুষের কাছে হিটলার সম্পর্কে অনেক ধারণা পাল্টে দেবে। মানুষ চিনবে এক অচেনা, নতুন হিটলারকে।




কোন মন্তব্য নেই