চন্দ্র অভিযান নিয়ে যত বিতর্ক।চন্দ্র বিজয়ের অভিযান কি সত্যি নাকি বানোয়াট?

চন্দ্র অভিযান নিয়ে যত বিতর্ক।চন্দ্র বিজয়ের অভিযান কি সত্যি নাকি বানোয়াট?

চাঁদ,অনেক সময় নস্টালজিক, অনেক সময় সুন্দরের প্রতীক,আবার অনেক সময় আরো
অনেক কিছু।কিন্ত এই চাঁদ যে কত রহ্স্যের আধার তাকি আর চাদের দিকে তাকিয়ে বলা যায়?দূর
থেকে জ্বলজ্বলে এই চাঁদকে আমরা দেখেই
যাই,কিন্তু এর পেটে লুকিয়ে আছে নানা রকমের রহস্যের ঝুলি। তারই একটা নিয়ে আজকের এই ভিডিও।পৃথিবী থেকে স্বচোখে দেখা পৃথিবীর নিজস্ব উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ সেই প্রথম থেকেই।চাঁদকে মুঠোয় পুড়ে নেবার মন্ত্রেই যেনো শূন্যের পথে মানুষের বিজয়রথ শুরু হয়েছিল।আর একটা সময় মানুষ ঠিকই পা রেখেছে স্বপ্নের সেই চাঁদের দেশে।১৯৫৮ সালে রাশিয়ার স্পুটনিক স্যাটেলাইটের পরেই পরাশক্তিধর আমেরিকা আচমকাই ঘোষণা দিয়ে বসে চন্দ্র অভিযানের।অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্র অভিযানের সাফল্য অ্যাপোলো ১১ এর মাধ্যমে।অব্যশ ১৮৬৫ সালে সাহিত্যিক জুলভার্ন ‘ফ্রম আর্থ টু দ্যা মুন’ নামে একটি সাহিত্য রচনা করেন।এই কল্পকাহিনীতে একটি মহাকাশযান অ্যামেরিকার ফ্লোরিডা থেকে যাত্রা শুরু করে চাঁদে অভিযান শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।জুলভার্নের এই সাহিত্য থেকে তৈরি হয় নির্বাক চলচ্চিত্র এ ট্রিপ টু দ্যা মুন’ যা ১৯০২ সালে মুক্তি পায় আর মানুষ স্বাদ পায় চন্দ্রজয়ের !কিন্তু সব কল্পনা বাস্তবে রুপ পায় ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক সময় ০২:৫৬ তে, যখন মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন। সেই থেকে দিনটি বিজ্ঞান আর মানবসভ্যতার জন্য চিরস্মরণীয় একটি দিন।পৃথিবী থেকে চাঁদ জয়ের যাত্রা কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল আর দুরূহ ছিলো নিঃসন্দেহে। অভিযানটি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত ছিলো।যেমনঃ-নকশা,পরীক্ষা,রকেট তৈরি করা, রকেট ও মহাকাশযান শুন্যে উৎক্ষেপন,পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে চাঁদের অভিমুখে যাত্রা,চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ,আবার নিরাপদে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন।
অ্যাপোলো ১১ ছিলো অ্যাপোলো মিশনের ৫ম অভিযান।প্রথম মানব হিসেবে নীল আর্মস্ট্রং এর চাঁদে পদার্পণ করবার প্রায় ২০ মিনিট পর বাজ অলড্রিন চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেন দ্বিতীয় মানব হিসেবে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক রীতি অনুযায়ী, কোনো অজানা জায়গায় মিশনের কমান্ডার প্রথমে প্রবেশ করেন না।সে হিসেবে পাইলট অলড্রিনেরই প্রথম চাঁদে পা রাখার কথা। কিন্তু দুই নভো অভিযাত্রীর কেউই এ ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না স্বাভাবিকভাবেই।শেষ পর্যন্ত নাসা সিদ্ধান্ত নেয় যে সিনিয়র হিসেবে আর্মস্ট্রংই এই বিরল সম্মান পাবেন।তাদের অপর সঙ্গী মাইকেল কলিন্স তখন চাঁদের কক্ষপথে সার্ভিস মডিওল ‘কলাম্বিয়া’র পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন।এই নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে প্রায় ২১ ঘণ্টা ছিলেন।এসময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।অতঃপর অভিযান শেষে তারা সফলভাবে ২৪শে জুলাই নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।মানুষের চাঁদ জয়ের গল্প আপনার সকলেই জানেন?বিশ্ব বিজয়ের সীমানা পেড়িয়ে যেন পা রাখল তার সীমানার বাইরে।আচ্ছা বলেন তো এপর্যন্ত কত জন মানুষ চাঁদে পা রেখেছে?কি মনে পরছে না?মনে না পরলে সমস্যা নেই।আপনারা এই ভিডিওটা দেখতে থাকুন,তাহলে সব বিস্তারিত জেনে যাবেন।মানব সভ্যতার সব থেকে রমাঞ্ছকর ও শরীর হিম করার মতো একটা ছোট্ট মন্তব্য,একজন মানুষ এর জন্য ছোট্ট একটি পদক্ষেপ কিন্তু মানব জাতির জন্য অনেক বড় পাওয়া।এভাবেই ২০ জুলাই, ১৯৬৯ চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষটি পৃথিবীবাসীকে জানিয়েছিল তার প্রথম অভিজ্ঞতা।মানুষটি আর কেউ না,হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন নীল আরমষ্ট্রং পৃথিবীবাসী মানে আমরা অনেক অবাক হয়েছিলাম।অবশ্য আমার সৌভাগ্য হয়নি,আমি তখন পৃথিবীর আলো দেখিনি।কিন্তু যাদের এই সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকে আছেন সন্দেহবাদী।তারা দাবি করেন সেই দিন যা হয়েছিলো তা ছিলও মানব সভ্যতার সব থেকে বড় মিথ্যা।প্রায় অর্ধ শতাব্দী জুড়ে চলছে এই তর্ক,সমাধান হয়নি এখনো।মানুষ কি আসলেই কখনো চাঁদে গিয়েছিল?একটা বড় অংশের বিশ্বাস যে যায়নি,এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে ক্রমশ যেন আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে তাদের এই থিওরি। এর স্বপক্ষে প্রমাণও আছে ভুরি ভুরি।যেমন- ছবিগুলোতে আলোক প্রক্ষেপণ,নভোচারীদের ছায়া, ব্যাকগ্রাউন্ড,আমেরিকার পতাকার রঙ কিংবা একেক ছবিতে একেক রকম অবস্থান,সর্বোপরি নাসার চন্দ্র অভিযানের সাথে যুক্ত ১২ জন মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু!এইসব রহস্যময় কারনে প্রথম  চন্দ্র অভিযান আজও হয়ে আছে বির্তকিত।সব থেকে মজার বিষয় হলও আমেরিকার ২০% মানুষ বিশ্বাস করেনা তখন তারা সেই সময় চাঁদে গিয়েছিল।১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার চন্দ্রমিশন এপোলো-১১ চাঁদে তাদের মিশন সম্পন্ন করে ফিরে আসার পর পরই শুরু হয়ে যায় এক চমকপ্রদ এবং দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের। বিতর্কটি হলো, আমেরিকার চাঁদে মানুষ পাঠানোর ব্যাপারটি আসলে মিথ্যা এবং জনগনকে ধোঁকা দেয়ার এক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।এই দাবির স্বপক্ষে অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিস্তর গবেষণা ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে।তাদের বক্তব্য এপোলো মিশনগুলো পৃথিবীতে মুভি ক্যামেরার মাধ্যমে শ্যুট করা।তারা “নাসা”-কে এই ধোঁকাবাজির মূল হোতা বলে দায়ী করে,কারণ সেই চন্দ্রমিশনগুলোর সাথে জড়িত অনেক প্রমাণ,ছবি, টেলিম্যাট্রিক টেপ হয় নষ্ট হয়ে গিয়েছে বা করা হয়েছে অথবা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।নাসা ও কনস্পিরেসি থিওরির প্রবক্তা-এই দুই বিবাদমান দলের বাইরের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানকারিদের অনুসন্ধানে অবশ্য মানুষ চাঁদে গিয়েছে-এই দাবীর পক্ষেই প্রমাণ এসেছে।তবুও “মানুষ চাঁদে যায় নি” তত্ত্বটি এখনো বিতর্কের ময়দানে টিকে আছে নাসা’র জন্য এক মাথা ব্যথা হয়ে।বিষয়টি নিয়ে জনমত জরিপ করলে দেখা যায়, ৬-২০% মার্কিনী বিশ্বাস করেন, প্রথম এপোলো মিশনটি ছিল আসলে ভুয়া, রাশিয়াতে এই দলের হার ২৮%। ২০০১ এ জনপ্রিয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফক্স টিভি তাদের Conspiracy Theory: Did We Land on the Moon?-এ দাবি করে ,১৯৬৯ এর এপোলোর ১ম মিশনটা ছিল আসলে ভুয়া,সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাশূণ্য প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলার জন্য।বিতর্কের প্রথম সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত বিল কেসিংস এর লেখা বই We Never Went to the Moon: America's Thirty Billion Dollar Swindle প্রকাশ হওয়ার পর।ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি নামে এক সংগঠন প্রথম বারের মত নাসাকে অভিযুক্ত করে এই বলে যে,এপোলো-১১ মিশনটি আসলে ওয়াল্ট ডিজনির অর্থায়নে হলিউডে ধারণ করা করা হয়েছে।যার পান্ডুলিপি লিখেছিলেন আর্থার সি ক্লার্ক আর পরিচালনায় ছিলেন স্টেনলি কিউব্রিক।লোকসাহিত্যবিদ লিন্ডা ডে’র মতে,আমেরিকা যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত,তখন জনগনের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতেই নাসা’র এই নাটকের মঞ্চায়ন।চন্দ্রমিশন এপোলো-১১ একটি সাজানো নাটক-এই দাবির সপক্ষে বেশ কিছু তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে।প্রধান তিনটি হলো,সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাশূন্য প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলার আকাঙ্খা,মার্কিন সরকার আপাত দৃষ্টিতে অসম্ভব চন্দ্র মিশনে আর অর্থ দিতে রাজি হচ্ছিলো না,অর্থ বরাদ্দ যাতে বন্ধ না হয়,তাই নাসা’র এই নাটকের অবতারণা এবং সর্বশেষ ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা।আসুন এই দলের কয়েকজনের যুক্তি শোনা যাক।ব্রিটিশ প্রকাশক মার্কাস এলেন “নেক্সাস” এ লিখেন, ‘নাসা এপোলো-১ মিশনে তেজস্ক্রিয়তার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড সামাল দিতে পারেনি,তাই তারা পরে রোবট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রকৃতপক্ষে,এপোলো-১১ নয়,এপোলো-১৪ ও ১৫ হলো প্রথম চন্দ্রমিশন,যাতে মানুষ চাঁদে পদার্পন করে।‘মিল্টন উইলিয়াম কুপার নামে একজন দাবি করেন,সব গুলো এপোলো মিশনই আসলে ব্যপক রিহারসেলের মাধ্যমে এক বিশাল সাউন্ড স্টেজে তৈরি করা হয়েছে।ডেভিড গ্রোভস,একজন ফটোগ্রাফ বিশেষজ্ঞ জানান, লুনার ল্যান্ডার থেকে নীল আর্মস্ট্রং এর চন্দ্রপৃষ্ঠে নামার যে ছবি আছে,তা পরীক্ষা করে তিনি দেখেছেন,”সেখানে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়েছে।“বিল কেসিং,যার মাধ্যমে এই বিতর্কের সূত্রপাত,তার মতে- “রাশিয়া সব সময়ই আমেরিকার চন্দ্রাভিযানের কার্যকলাপ চোখে চোখে রাখতো।নাসা’র প্রয়োজন ছিল,একটি প্রতারণামূলক কিন্তু সবার দৃষ্টিতে সফল চন্দ্রমিশনের নাটক মঞ্চায়িত করা।ইতোমধ্যেই ১৯৫৯ এ সোভিয়েত নভোচারি ইউরি গ্যাগারিনের মহাশূণ্য ভ্রমণের ব্যপারটি আমেরিকার জন্য অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।আর সেই সময়ে চাঁদে মানুষ পাঠিয়ে মিশন সফল করার সম্ভাব্যতা হার ছিল ০ দশমিক ০০১৭% ।"স্ট্যানিস্লাভ পোক্রোভস্কি (General Director of a scientific-manufacturing enterprise Project-D-MSK ) ক্যালকুলেট করে দেখান যে, নাসা থেকে “স্যাটার্ন ভি” রকেটের উড্ডয়নকালীন যে গতিবেগ জানানো হয়েছে তা প্রকৃত গতির তুলনায় অর্ধেক।অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তিনি জানান,বর্তমান (সেসময়ের) বিশ্বের সাম্প্রতিক টেকনোলজি, রকেটের গতিবেগ, মহাশূন্যতে বায়ুস্তরের স্বল্প ঘনত্ব শুধু চাঁদের চারপাশে মহাশূন্যযানের প্রদক্ষিণকে সম্ভব করতে পারে,নাসা যা দাবি করেছে তা নয়।“বার্ট সিব্রেল,একজন চলচ্চিত্র পরিচালক A Funny Thing Happened on the Way to the Moon ( ২০০১) যিনি বিশ্বাস করতেন এপোলো-১১ চন্দ্রমিশন সত্য নয়,সেই মিশনের তিন নভোচারীর একজন বাজ অলড্রিনকে মুখোমুখি এক সাক্ষাতকারে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে,অল্ড্রিন বার্ট সিব্রেলের মুখে ঘুষি মারেন (সেপ্টেম্বর ৯,২০০২)সালের ঘটনা এটা।লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক এটর্নি অফিস,অল্ড্রিনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।নাসা মিডিয়ার কাছে যেসব ছবি সরবরাহ করে তা নিয়ে বিতর্ক যেন শেষ হবার নয়,উভয় পক্ষেরই যুক্তি-পাল্টা যুক্তি এখনো চলমান।ছবিগুলোতে আলোক-প্রক্ষেপণ,নভোচারীদের,ছায়া,ব্যাকগ্রাউন্ড,আমেরিকার পতাকার রঙ কিংবা একেক ছবিতে একেক রকম অবস্থান-এই অর্ধ শতাব্দীকালব্যাপী বিতর্ককে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে।এপোলো-১১ তে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর প্রাথমিক নকশা,ব্লু-প্রিন্ট,ডাটা টেপ ও প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠের হাঁটার হাই-ডেফিনেশন ভিডিওর হারিয়ে যাওয়া-ঘটনার জল ঘোলা করেছে শুধু।২০০৯ এ নাসা জানায়,তারা বহু আগেই টেপ গুলোতে থাকা তথ্য মুছে দিয়েছে,যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা যায়।এই যুক্তি অনেকের কাছেই হাস্যকর লাগে,নাসার কি অর্থের এতই অভাব পড়ে গেলো যে আমেরিকার “জাতীয় গৌরবময়” অধ্যায়ের একটি ঘটনার স্মৃতি তারা এভাবে মুছে দেবে!সর্বশেষ ফক্স টিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো কিছু ভয়াবহ তথ্য। নাসা’র মানুষ্যবাহী চন্দ্রমিশনের সাথে জড়িতদের মধ্যে দশ নভোচারী ও আরো দুইজনের মৃত্যু হয় অস্বাভাবিকভাবে। থিওডোর ফ্রিম্যান টি-৩৮ বিমান থেকে পড়ে মারা যান (১৯৬৪)সালে,এলিওট সি ও চার্লি ব্যাসেট-টি-৩৮ বিমান ক্র্যাশে মারা যান(১৯৬৬)সালে,ভার্জিল ইভান গাস গ্রিসম-এডওয়ার্ড হিগিনস এবং রজার বি চেফ-এপোলো-১ অগ্নিকান্ডে মারা যান ( জানুয়ারি,১৯৬৭)সালে,এডওয়ার্ড এড গিভেন্স-গাড়ি দুর্ঘটনা মারা যান (জুন,১৯৬৭)সালে,রবার্ট হেনরি লরেন্স ইউএস এয়ার ফোর্সের Manned Orbiting Laboratory র পাইলট হিসেবে নির্বাচিত হবার অল্প কিছুদিন পরই F-104 বিমান ক্র্যাশে মারা যান (ডিসেম্বর,১৯৬৭)সালে।এছাড়া ১৯৬৭র ২৭ এপ্রিল থমাস রোনাল্ড ব্যারন নামে নর্থ আমেরিকা এভিয়েশনের এক কর্মচারী সপরিবারে এক কার-ক্র্যাশে নিহত হন।তিনি ছিলেন এপোলো-১ মিশনের কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর এবং এপোলো-১অগ্নিকান্ডের পর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনায় করায় অগ্নিকান্ডের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি তাকে চাকরিচ্যুত করে,এর ৬ দিনের মাথায় তিনি নিহত হন।সর্বশেষ নাসা’র জনসংযোগ ও মিডিয়া সার্ভিসের একজন প্রথম সারির কর্মকর্তা ব্রায়ান ডি ওয়েলচ ফক্স টিভির ডকুমেন্টারির যুক্তি খন্ডন করে নাসা’র পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ার কয়েক মাস পরেই হার্ট এটাকে মারা যান,মাত্র ৪২ বছর বয়সে।অব্যশ পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়,হার্ট অ্যাটাক স্বাভাবিক ছিল না।হয়তো ব্যাপক মানসিক চাপ কিংবা কোন অজানা রাসায়নিক পদার্থ তার শরীরে পুশ করা হয়,তাতেই তিনি মারা যান।যদিও তিনি চন্দ্রাভিযানের সত্যতার পক্ষেই যুক্তি দিয়ে গিয়েছেন,তবে কিছু সূত্র জানায়,অনেকে তার কাছ থেকে গোপন তথ্য ফাঁসের ভয়ে ছিল।বিল কেইসিং যিনি ছিলেন অ্যাপোলো রকেট ডিজাইন করা কম্পানি রকেটডাইন এর একজন ইঞ্জিনিয়ার ও পর্যবেক্ষক।তার লেখা একটি বই “উই নেভার ওয়েন্ট টু দি মুন”।বইটি প্রকাশ হয়েছিল, ১৯৭৪ সনে।এই বইয়ে তিনি দাবি করেন অ্যাপোলো মিশন ছিল শুধু বড় একটা মিথ্যা।এই মিশন এর সম্পূর্ণটাই ছিল  ধোঁকাবাজি, যাকে আমরা বলতে পারি আইওয়াস।তিনি এই বইয়ে অনেক প্রমান উপস্থাপন করেন।অ্যাপোলো মিশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ব্রাইয়ান অলেরি সহ অনেকেই তাকে সমর্থন জানান। যা সত্যি অ্যাপোলো মিশনকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে।শুধু বিল কেইসিং নন, ব্রাইয়ান ওলেরিও অ্যাপোলো মিশনকে ১০০% সত্য মানতে নারাজ। ষাট এর দশকে তিনি নাসাতে কর্মরতো ছিলেন একজন মহাকাশচারী এবং অ্যাপোলো মিশন এর বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসাবে। তিনি বলেন,আমি শত ভাগ নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না যে সত্যিই তারা সেদিন চাঁদে গিয়েছিলো কিনা?”তাহলে আমরা যা জানি সবই ভুল!উত্তর জানতে আমরা ফিরে যাই ৪০ বছর আগে যখন আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছিল। দুই দেশের মধ্যে একটা শীতল যুদ্ধ চলছিলো। আর সেই যুদ্ধ জিততে চাচ্ছিলো দুই দেশই। তখন এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো, যে দেশ মহাকাশে আগে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে সেই এই শীতল যুদ্ধে জয়ী হবে। ৪র্থ অক্টোবর, ১৯৫৭ সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীর প্রথম স্যাটেলাইট “স্পুটনিক” মহাকাশে পাঠায় যা আমেরিকাকে আতঙ্কিত করেছিলো।কারন মহাকাশ দৌড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার আগে চলে গেছিলো।যা আমেরিকা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি।কিন্তু আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা তখন অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো এমনকি তাদের অনেক গুলো মহাকাশযান মাটি থেকে ওড়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যায়।আমেরিকা ধারনা করছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল চাঁদে মিশাইল বেস বানানো।বিল কেইসিং এর মতে মানুষের চাঁদে যাওয়া এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা .০০১৭%।কারন ষাট এর দশক এর প্রযুক্তি।যা বস্তুতো পক্ষে মানুষের চাঁদে যাওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।যদি অ্যাপোলো মিশন মিথ্যা হয় তাহলে কিভাবে আমেরিকা এত বড় মিথ্যা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করলো?বিল কেইসিং আরও বলেন,অ্যাপোলো মাহাকাশযান গুলো সত্যি মহাকাশে গিয়েছিল কিন্তু চাঁদে মানুষ পাঠানো হয়নি।অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযানটি ৮ দিন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরেছিল মাত্র।আর টিভিতে পূর্বে ধারণ করা মহাকাশচারীদের ভিডিও ও ছবি দেখানো হয়েছিলো।৮ম দিনে মহাকাশযান থেকে মূল যানটি আলাদা হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।অনেকে মজা করে বলেন,অ্যাপোলো মিশন পৃথিবীর সব থেকে বিগ বাজেটের মুভি।১৯৭৮ সনে একটা মুভি কেপ্রিকন ১ মুক্তি পায়,সেই মুভিতে দেখানো দৃশ চাঁদ থেকে মহাকাশচারীদের পাঠানো ভিডিও এর সাথে একদম মিলে যায়।ছবি এর প্রযোজক পল ল্যাযারুস এর মতে, নাসার ৪০ বিলিয়ন বাজেটের প্রোগ্রাম অ্যাপোলো মিশনে যে ভিডিও দেখিয়েছে তা তারা মাত্র ৪ মিলিয়ন বাজেট নিয়ে করে দেখিয়েছেন এবং তা তারা করেছেন একটা টিভি ষ্টিডিওতে।তিনি মনে করেন ষাট এর দশকে সেটা করার মতো প্রযুক্তি তখন আমাদের ছিল।বিল কেইসিং এর মতে নাসার অ্যাপোলো মিশন এর চিত্রায়ন করা হয়েছিল আমেরিকা এর একটি মরুভুমিতে যা এরিয়া ৫১” নামে পরিচিত।এরিয়া ৫১ হল আমেরিকা এর একটি খুবই গোপনীয় মিলিটারি বেস।যেখানে সাধারন মানুষের প্রবেশ নিষেধ।রাশিয়া এর স্পাই স্যাটেলাইট থেকে এরিয়া ৫১ এর তোলা ছবিতে দেখা যায় সেখানে মুভি সেট রয়েছে এবং কিছু যায়গা চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দেখতে।ভিডিওতে কিছু ফটো দেওয়া হল।উপরের ছবির বাম পাশের ছবিটা চাঁদের, তোলা হয়েছিলো অ্যাপোলো ১০ থেকে। আর ডান পাশের ছবিটা হল এরিয়া ৫১ এর। যা তোলা হয়েছিলো স্যাটেলাইট থেকে।কিন্তু মজার বিষয় হল কোন কারনে দুটি ছবিতে আশ্চর্য রকম মিল খুজে পাওয়া যায়।তিনি আরও বলেন এই কারনে এরিয়া ৫১ এত সুরক্ষিত। তিনি মনে করেন চাঁদে যাওয়ার শুটিং স্পট এখনও
সেখানে আছে।এটা এরিয়া ৫১ এর যা স্যাটেলাইট থেকে তোলা।অনেকে মনে করেন গোল চিহ্নিত জায়গাটা আসলে একটা মুভি সেট।যেখানে অ্যাপোলো মিশন গুলোর জন্য ভিডিও তৈরি করা হয়।(#)ব্লাষ্ট ক্রিয়েটর ও ইঞ্জিন নয়েজঃ-রকেট ইঞ্জিন এর শব্দের মাত্রা ১৪০ থেকে ১৫০ ডেসিবল।এক কথায় রকেট ইঞ্জিন অনেক উচ্চ মাত্রার শব্দ উৎপন্ন করে।কিন্তু লুনার মডিউল এর চাঁদে অবতরণের নাসার অফিসিয়াল ভিডিওতে কোন ইঞ্জিন নয়েজ ছিলও না।ভিডিওতে দেখা যায় মহাকাশচারীদের কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে,যেখানে ইঞ্জিনের কোন আওয়াজ নেই।বিল কেইসিং অ্যাপোলো মিশন এর ছবি গুলো পরীক্ষা করে দেখেন কিন্তু তিনি লুনার মডিউলে কোন ব্লাষ্ট ক্রিয়েটর দেখতে পাননি।প্রতিটি রকেটের পিছনে ব্লাষ্ট ক্রিয়েটর থাকে।যা দিয়ে রকেট এর পিছন দিকে উচ্চ মাত্রার চাপ সৃষ্টি করা হয়।যা রকেটকে প্রচণ্ড গতিতে উপরের দিকে যেতে সাহায্য করে।ভিডিওতে একটা ছবি দেওয়া হলও।লুনার মডিউল এর চাঁদ থেকে মূলযানে ফিরে যাওয়ার যে ভিডিও দেখানো হয় তাতে লুনার মডিউল এর পিছনে নজল থেকে কোন আগুনের ফুলকি বের হতে দেখা যায়নি।এটা প্রমান করে লুনার মডিউলে কোন ব্লাষ্ট ক্রিয়েটর ছিল না।যা বিস্ময়কর একটা ব্যাপার, যা অবাস্তব।পায়ের চিহ্ন ও চাঁদের ধুলাঃ-(#)আগেই বলা হয়েছে যে রকেট এর পিছন দিয়ে অতি উচ্চ চাপের জ্বালানি বের হয়।যা চাঁদে অবতরণ কালে চাঁদের পাউডার এর মতো বালিকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বিল কেইসিং জানান যদি লুনার মডিউল সত্যি চাঁদে অবতরন করে তাহলে লুনার মডিউলের ফুট প্যাডে অবশ্যই ধুলা বালি থাকবে।কিন্তু লুনার মডিউলের ফুট প্যাডে কোন ধুলাবালি দেখা জায়নি।যে পরিমান চাপ একটি শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিন এর পিছন দিয়ে বের হয় তা চাঁদের ধুলাবালিকে উড়িয়ে দিবে। কিন্তু কেন কোন ধুলাবালি ফুট প্যাডে ছিল না?ভিডিওর ছবিটা খেয়াল করুন।রকেট ইঞ্জিন অনেক শক্তিশালী হয়। চাঁদে অবতরণ করার সময় এবং উত্থান কালে যে পরিমান চাপ রকেট দিবে তা চাঁদ এর ধুলাবালি উড়িয়ে দিবে। সুতরাং লুনার ল্যান্ডার এর আশেপাশে কোন ধারনের পদচিহ্ন থাকার কথা না। কিন্তু দেখতে পাই লুনার মডিউল চাঁদ থেকে ফিরে আসার পরও চাঁদে রেখে আশা ক্যামেরা থেকে পাঠানো ছবিতে লুনার ল্যান্ডার এর আশেপাশে অনেক পায়ের চিহ্ন।ভিডিওর ছবিটি দেখুন।(#)চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষ শক্তিঃ-চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর ৬ ভাগের ১ ভাগ। তাই আমরা চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকাশচারীদের যে ভিডিও দেখতে পাই তা আমাদের কাছে মনে হবে একটু ধীরে নড়ছে। ডেভিড পারসি (রয়্যাল ফটোগ্রাফিক স্যোসাইটি এর একজন পুরুস্কার বিজিত ফটোগ্রাফার) বিশ্লেষণ করে দেখেন যে যদি অ্যাপোলো মিশন এর ভিডিও স্পীড দিগুণ করা হয় তা হলে তা পৃথিবীতে চিত্রিত বলে মনে হবে।এমনকি লুনার রোঁভার (চাঁদে যে গাড়ি মহাকাশচারীরা ব্যবহার করেছেন) কে মনে হবে পৃথিবীর কোন মরুভূমিতে চলছে।(#)উড়ন্ত পতাকাঃ-চাঁদে কোন বাতাস নেই। কিন্তু ভিডিওতে অ্যামেরিকান পতাকা উড়তে দেখা যায়। যা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। পুরো চন্দ্রাভিযান পৃথিবীতে শুটিং করা এই ধারনার পিছনে এটা একটি বড় কারন।(#)স্টিল ফটোগ্রাফি ও একাধিক আলোর উৎসঃ-অ্যাপোলো মিশনে মহাকাশচারীদের বিশেষ পোশাক ছিল অনেক ভারী ও মোটা। এই পোশাকে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর। তাদের যে ক্যামেরা দেওয়া হয় তা তাদের বুকে লাগানো থাকত। অনেকে বলেন এই ভারী পোশাকে তাদের বুকে লাগানো ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টসাদ্ধ ছিল। ছবি তোলার সময়ে তাদের শরীর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছবি তুলতে হতো।এই পোশাক পরা অবস্থায় তারা তাদের বুকে লাগানো ক্যামেরা দেখতে পেতো না।কারন তারা তাদের মাথা ঘুরাতে ও উপর নিচে করতে পারত না।সুতরাং ক্যামেরার ভিউ ফাইনডার দেখতে পেতো না।কিন্তু মজার ব্যাপার হল চাঁদে তোলা সব ছবি অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিষ্কার,যা স্বন্দেহের কারন।তথ্য গুলো দিয়েছেন অ্যাপোলো মহাকাশচারীদের জন্য ক্যামেরার নকশাকারী জন লুন্ডবার্গ।বিল কেইসিং আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।তা হলও একাধিক আলোর উৎস।চাঁদে মহাকাশচারীদের আলোর উৎস ছিলও শুধু মাত্র সূর্য। সুতরাং চাঁদে ছবি তুললে বস্তুর ছায়া হবে সমান্তরাল। কিন্তু ছবি গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ছায়া গুলো একে অপরকে ছেদ করে,মানে সমান্তরাল নয়।যা একাধিক আলোর উৎসকে ইঙ্গিত করে।তিনি বলেন এই সব ছবি পৃথিবীতে তোলা,চাঁদে নয়।ভিডিওতে দেওয়া কিছু ছবি দুটি লক্ষ্য করুন।প্রথম ছবির ডান পাশের ছবিটি অ্যাপোলো ১১ মিশনের।যেখানে মহাকাশচারী লুনার মডিউল থেকে নামছেন।ছবিটি অনেক নিখুঁত এবং উজ্জল,যদিও মহাকাশচারী লুনার মডিউলের ছায়া তে ঢাকা পরেছেন।চাঁদে যেহেতু আলোর উৎস শুধু একমাত্র সূর্য তাই ছবিটি হওয়া উচিৎ ছিল বাম পাশের ছবিটির মতো।এটাও “একাধিক আলোর উৎস”এই যুক্তির পিছনে শক্ত একটা কারন।নিচের দুটি ছবিটিতে মহাকাশচারীর সামনের অংশ একদম পরিষ্কার।যেখানে সূর্য তার পিছনে ছিল। যা একাধিক আলোর উৎস ছাড়া সম্ভব না।এগুলো প্রমান করে অ্যাপোলো মিশন পৃথিবীতে শুটিং করা।এসব ছবি ও ভিডিও অ্যাপোলো মিশন কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।(#)অভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডঃ-ভিডিওতে ছবি গুলি একটু খেয়াল করুন।চারটি ছবি বিভিন্ন চন্দ্রাভিযান এর। কিন্তু প্রথম দুটি ও শেষ দুটির ব্যাকগ্রাউন্ড অভিন্ন মনে হবে।যদিও নাসা দাবি কারে ছবিগুল চাঁদের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের।উপরের ছবি দুটি অ্যাপোলো ১৬ অভিযানের।প্রথম ছবিটি চাঁদে নামার প্রথম দিনের এবং দ্বিতীয় ছবিটি পরের দিনের ভিন্ন একটি জায়গার।নাসা বলেছিল যায়গাটা প্রথম স্থান থেকে ২.৫ মাইল দূরে অবস্থিত।যদি তাই হয় তাহলে লোকেশন অভিন্ন হয় কিভাবে তার উত্তর জানা নেই কারো।এমন কি অ্যাপোলো মিশন গুলোর ভিডিও চিত্রেও এরকম অভিন্ন লোকেশন দেখতে পাওয়া যায়।তার মানে হল পৃথিবীতে একি লোকেশনে বার বার ভিডিও ধারণ করে তা দেখানো হয়েছিল।(#)ক্রসহেয়ারঃ-অ্যাপোলো মিশনে যে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিলো তার লেন্সে ক্রসহেয়ার স্থায়ী ভাবে লাগানো।তাই ওই ক্যামেরা দিয়া ছবি তুললে ছবির উপর ক্রসহেয়ার থাকবে।কিন্তু অ্যাপোলো মিশন এর অনেক ছবিতে দেখা যায় ক্রসহেয়ার এর কিছু অংশ অবজেক্টে ঢেকে রেখেছে। যা প্রমান কারে ছবিগুলো এডিট করা।ভিডিওর এই ছবি গুলো তাহলে কি প্রমান করে?আমরা চাঁদে যাইনি কখনও? সবই কি তাহল নাসা এর কারসাজি মহাকাশ লড়াইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এগিয়ে থাকতে?বিজ্ঞানী রলফ রেনে এর মতে মহাকাশের রেডিয়েশন থেকে বাঁচতে হলে অ্যাপোলো মহাকাশযান এর যে পরিমাণ পুরু দেয়াল থাকা দরকার ছিল তা ছিল না।এছাড়া মহাকাশচারীদের পোশাকও ছিলনা রেডিয়েশন ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট।আর পৃথিবীর বাহিরের এই সব ভয়ঙ্কর রেডিয়েশন মানুষের অনেক ক্ষতি করে যেমন ক্যান্সার সৃষ্টি করে,চামড়া পুড়ে যাওয়া,চুল ঝরে যাওয়া ইত্যাদি।এমন কি মৃত্যুও হতে পারে।কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন অ্যাপোলো মহাকাশচারীর কোন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি,যা মহাজাগতিক রেডিয়েশন এর জন্য হতে পারে।চাঁদের ভুমি মানুষের জন্য খুবই রুক্ষ।দিনের বেলাতে তাপমাত্রা ২৫০ ডিগ্রি এর উপরে এবং রাতের বেলাতে তা -২৫০ ডিগ্রি এর নিচে থাকে।যা নাসার মহাকাশচারীদের জন্য বানানো পোশাক মহাকাশচারীদের সুরক্ষিত করতে পারবে না।তিনি নাসাকে প্রমান করতে বলেছিল তার যুক্তি মিথ্যা।তিনি বলেছিলেন কোন একজন মানুষকে ওই পোশাক পরিয়ে ২৫০ ডিগ্রি তাপ কক্ষে রাখার জন্য।কিন্তু নাসা তা কারেনি।বিল কেইসিং বলেন,যদি নাসা সত্যি চাঁদে গিয়ে থাকে তাহলে লুনার ল্যান্ডার, রোভার ও অন্যান্য যন্ত্র চাঁদে এখনও থাকবে।পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে নাসা যদি লুনার ল্যান্ডার চাঁদের পৃষ্ঠে দেখাতে পারে তাহলে আমি কোন দিন অ্যাপোলো মিশন নিয়ে কথা বলবো না।কিন্তু নাসা তা করেনি।সত্যি অবাক লাগছে,তাই না।আমারও অবাক লেগেছিলো। সত্যি যদি অ্যাপোলো মিশন মিথ্যা হয় পৃথিবীবাসী হিসাবে আমাদের গৌরব করার মতো আর কি থাকল?এতক্ষন যা বললাম তার অনেক কিছুই বুঝতে হয়ত একটু সমস্যা হচ্ছে। তাহলে এবার।মহাকাশচারী আর্মস্ট্রংকি বলে।আর্মস্ট্রং বলেন,মানুষজন মুখরোচক আর ষড়যন্ত্রের গল্প পছন্দ করে। গুজব লোকজনকে আকর্ষণ করে,কিন্তু সেসব নিয়ে আমার মাথা ঘামাবার সময় নেই। কারণ আমি জানি,কোনো একদিন হয়ত কেউ আবার চাঁদে যাবেন এবং আমি যে ক্যামেরাটি সেখানে ফেলে এসেছি,সেটি উদ্ধার করে নিয়ে আসবেন গল্পকারীদের  জন্য।চাঁদের মাটির নমুনা আমাদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবনের মহাফেজখানায় (Record Room) অবশ্য রক্ষিত আছে!’চাইলে আপনারা দেখে আসতে পারেন।যতই বিতর্ক থাকুক, চন্দ্র অভিযান মানবজাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও, চাঁদ নিয়ে অ্যাপোলো ১১ এর সফল অভিযান আজও বড় কিছু করতে অনুপ্রেরনা যোগায়।তারপরও কি ভাবছেন?মানুষ কি তাহলে সত্যি চাঁদে যায় নাই, নাকি গিয়েছিল?এ বিতর্কের উত্তর না হয় এবার আপনারাই খুঁজে দেখুন।তো বন্ধুরা আজকে এই ছিল ভিডিও টা আপনাদের জন্য।তো আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন আর যারা এখনো আমার চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করেননি,এরকম সত্যিকারের,বাস্তব চমকপ্রদ,রোমাঞ্চকর ঘটনা গুলো জানতে আমার চ্যানেলটিকে এখনই সাবস্ক্রাইব করে আমার পাশে থাকুন।আজ চলে যাচ্ছি,কিন্তু যাচ্ছি না আবার আসবো নতুন কোন বিষয় নিয়ে নতুন কোন ভিডিও নিয়ে আপনাদের কাছে।বন্ধুরা সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদ থাকবেন এই আশা নিয়ে আজকের ভিডিও শেষ করছি।আল্লাহ্-হাফেজ।আসসালামু আলাইকুম।

কোন মন্তব্য নেই

Goldmund থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.