আটলান্টিস ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া এক মহাদেশের কাহিনী।
আটলান্টিস ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া এক মহাদেশের কাহিনী।
রহস্য ভালবাসে না এমন মানুষ দুনিয়াতে নাই। অতি প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ রহস্যের পিছনে ছুটছে। কিছু রহস্য মানুষ উদ্ধার করতে পারে, কিছু রহস্য মানুষ কখনোই উদ্ধার করতে পারে না। আজ তেমনি একটা রহস্যের কথা বলবো। চলুন আপনাদের ঘুরিয়া আনি সেই বহুল প্রচলিত রহস্যময় দুনিয়া থেকে।যদি মেক্স লেভেলের Earthquake হয় তাইলে কি আটলান্টিস এর মত আমাদের ভাগ্যে বরণ করবে? আল্লাহ্ ভালো জানেন। তবে আমরা জানি আটলান্টিস এর কথা, অনেকে বলে বাইবেলে আছে এর গল্প, ইংগিত আছে কোরআনেও। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় , হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত নুহ (আঃ) এর মধ্যবর্তী সময়ে আর্বিভুত নবী হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর সময়ে জোর্তিবিদ্যা , অক্ষর ও লেখাপড়ার প্রবর্তন, অস্ত্র নির্মাণ ও বস্ত্র বুনন শিল্পের প্রচলন হয়েছিলো । বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ আবদুল ওহাহাব নাজ্জার এর মতে, হযরত শীস (আঃ) থেকে হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর পূর্বে মানব সভ্যতা সবাপেক্ষা যে অন্চলটিতে বিকশিত হয়েছিলো, সেটি পরবর্তীতে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । তবে অসম্ভব মজার বিষয় হচ্ছে নুহ আ: এর সেই বন্যার আগে পৃথিবী কেমন ছিল এবং কতটুকুন উন্নত ছিল সেটা জানার সাধ্য কারো নেই। কারন সেই ভয়ানক বন্যায় পুরো পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যায়। । আটলান্টিস কি ? । পৃথিবীতে যত হারিয়ে যাওয়া নগরী বা লস্ট সিটি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে হারানো আটলান্টিস। এ শহর সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত কোনো তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও এই নগরী সমৃদ্ধি আর উন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর পাওয়া গেছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিস্ময়কর তথ্যও। পৃথিবীর সেরা রহস্যময় জায়গাগুলোর একটি ধরা হয় এই আটলান্টিসকে। দূর কোনো অতীতে আটলান্টিস পেঁৗছে গিয়েছিল উন্নতি আর আধুনিকতার চরম শিখরে। সমসাময়িক বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিক্ষাকৃষ্টিতে, ঐশ্বর্যে আর সামরিক শক্তিতে অতুলনীয় হয়ে উঠেছিল তখনকার মানুষ। হয়তোবা আমাদের মতো,বা আমাদের থেকে বেশি?তাই আটলান্টিস ছিল এক ঐশ্বর্যময় এলাকা। সুজলা সুফলা পরিবেশের পাশাপাশি এখানকার খনিগুলো ভরা ছিল সোনা, রুপা, আর তামার আকরিকে। মহাদেশের দক্ষিণে আটলান্টিসের নৃপতিরা গড়ে তুলেছিলেন অনুপম এক নগরী। নগরীটির নামও ছিল আটলান্টিস। । একের পর এক সাজানো জলপথ আর স্থলপথ দিয়ে ঘেরা ছিল এই শহর। আর এই নগরের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাজপ্রাসাদটি। ছোট্ট একটি টিলার উপর গড়ে তোলা হয়েছিল এই সুরম্য প্রাসাদ। প্রাসাদ ঘিরে ছিল তিনটি খাল। প্রাসাদ চত্বরের একেবারে কেন্দ্রে ছিল একটি মন্দির। এই মন্দিরে নিয়মিত বসতেন আটলান্টিসের মহাক্ষমতাধর রাজা এ্যাটলাস আর তার নয় ভাই । পাঁচ-ছয় বছর পর পর তারা আসতেন এখানে। তাদের গায়ে থাকতো কালো রংয়ের পবিত্র পোশাক। প্রথমে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বুনো ষাঁড় বলি দিতেন তারা। দেবতাদের তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতেন ষাঁড়ের রক্ত। আর তারপর শুরু হত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আলোচনা। সবশেষে আলোচনার সারসংক্ষেপ লিখে নেওয়া হত সোনার ফলকে আর তা সংরক্ষণ করা হত পরের বৈঠকের জন্য। এই রাজাদের সুশাসনে দীর্ঘদিন সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আটলান্টিসবাসী। আর তারপর একদিন হঠাৎ ধ্বংস হয়ে যায় আটলান্টিস। আকস্মিক দুর্বিপাকে নিমেষে গায়েব হয়ে যায় আটলান্টিসের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। শক্তিশালী ভূমিকম্প দু-টুকরো করে দেয় আটলান্টিসকে। পাহাড় সমান ঢেউ এসে ভাসিয়ে দেয় আটলান্টিসের নগরগুলোকে। ভেসে যায় ক্ষেত-খামার আর বন-বনানী। সবার শেষে যে ভূমিকম্পটি হয়েছিল, সেটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। আর সেই ভূমিকম্প মহাদেশটিকে ডুবিয়ে দেয় সাগরতলে। মাত্র একদিন এবং একরাতের মধ্যে গোটা মহাদেশ বিলীন হয়ে যায় সাগরের গভীরে। কিংবদন্তীর এই বিশাল দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরে তলিয়ে যাওয়ার পর আর দেখা যায়নি কোনো দিন। এরও প্রায় নয় হাজার বছর পর প্রথমবারের মতো আটলান্টিসের গল্প বলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।গ্রিক দার্শনিক প্লেটো কি বলেছিলেন?তখন এসব খটমট বই খটমট ভাষায় লেখা হত না; নাটকের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলাই রীতি ছিল। এই নাটকগুলোকে বলা হত ‘ডায়ালগ’। প্লেটোর প্রথম ডায়ালগটির নাম ‘রিপাবলিক’। পরবর্তীতে তিনি আরও দুটি ডায়ালগ রচনা করেন— কাক ‘টিমিউস’ এবং ‘ক্রিটিয়াস’। এ দুটি ডায়ালগেই তিনি বিশদভাবে বর্ণনা দেন আটলান্টিসের। তবে ক্রিটিয়াসের বর্ণনায়ই আটলান্টিসের ছবি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সেই বর্ণনা অনেকটা এরকম। সে একদম সৃষ্টির শুরুর দিকের কথা। দেবতারা তখন পৃথিবী ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন। এসময় সাগরদেবতা পসাইডন ভাবলেন, তিনি নেবেন বিশাল এক মহাদেশ আর তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা কতগুলো দ্বীপ। যেমনি ভাবা, তেমনি কাজ। তার ছিল পাঁচ জোড়া যমজ সন্তান। প্রথম সন্তানের নাম রাখেন এ্যাটলাস। এই বিশাল ভূ- খণ্ডের নামও রাখলেন এই এ্যাটলাসের নামেই— আটলান্টিস। রাজা পসাইডন আটলান্টিসকে মোট দশ ভাগে ভাগ করলেন। সবচেয়ে বড় আর ভালো অংশটির প্রধান বানালেন এ্যাটলাসকে। কেবল প্লেটোই যে এই হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিসের বর্ণনা দিয়েছেন, তা কিন্তু নয়। পরে আরও অনেকেই এর উল্লেখ করেছেন। যেমন মাদাম বাভাৎস্কি। রাশিয়ান এই মহিলা ছিলেন অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আটলান্টিস নিয়ে আস্ত একটি বই-ই লিখেছেন— ‘দ্য সিক্রেট ডকট্রিন’।দুই খণ্ডের বইটিতে লেখক প্রাচীন আটলান্টিসকে উল্লেখ করেন হারিয়ে যাওয়া লেমুরীয় সভ্যতার উত্তরসুরী হিসেবে। মাদাম বাভাৎস্কি ও তার অনুসারীরা বিশ্বাস করতেন, সৃষ্টির শুরুতে সাতটি মূল জাতি ছিল। আর লেমুরীয়রা তাদের মধ্যে তৃতীয়। দক্ষিণ গোলার্ধ জুড়ে ছিল তাদের মহাদেশ। কথাও বলতে পারত না তারা। তবে তাদের চোখ ছিল তিনটি। তাদের এই তিন নম্বর চোখের এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল। সেই ক্ষমতার মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ করত একে অপরের সঙ্গে। বাভাৎস্কির মতে, আটলান্টিসবাসীরা এই লেমুরীয়দেরই বংশধর, চতুর্থ মূল জাতি। লাখ লাখ বছর আগে ডুবে যায় লেমুরীয়দের মহাদেশ। উত্তর আটলান্টিকে কেবল জেগে ছিল সামান্য একটু অংশ। পরবর্তীতে সেখানেই গড়ে ওঠে আটলান্টিস সভ্যতা। একদিন ডুবে যায় সেটিও। অস্ট্রিয়ার দার্শনিক রুডলফ স্টাইনারও বলে গেছেন আটলান্টিসের কথা। তিনি গবেষণা করে দেখান, আটলান্টিসবাসীরা উড়তেও শিখেছিল। তবে ওদের আকাশযানগুলো এখনকার পৃথিবীতে ওড়ার উপযোগী নয় মোটেও। কারণ, তখনকার দিনে বাতাস ছিল অনেক ঘন আর ভারি। আটলান্টিসকে নিয়ে লিখেছেন উইলিয়াম স্কট-এলিয়ট-ও। আর তার বর্ণনা প্লেটোর চেয়েও নিখুঁত। দিব্যজ্ঞান পেয়েছিলেন তিনি। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘দ্য স্টোরি অফ আটলান্টিস’। ওই বইয়ের তিনি লিখেছেন, আটলান্টিস শাসন করত এক শ্রেণীর অভিজাত মানুষ। তাদের সমাজ ছিল সর্বগ্রাসী, সর্বনাশা। সব কিছুকেই নিজেদের আয়ত্তে নিতে চাইত তারা। প্রযুক্তির দিক থেকেও উৎকর্ষতা লাভ করেছিল আটলান্টিয়ানরা। ঘণ্টায় একশ মাইল গতিতে চলতে পারে এমন উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেছিল তারা। আর সেই উড়োজাহাজ চালান হত ‘ভ্রিল’ নামের এক ঘরনের জ্বালানি দিয়ে। যার সঙ্গে মিল আছে আজকের জেট ফুয়েলের। । একটা দ্বিপকে তারা ঠিক সেন্ট্রাল অংশ বরাবর গোল করে স্তরে স্তরে প্লানিং করেছিল। প্রতিটা স্তরে পানির চলাচলের ব্যাবস্থা ছিল। তার মানে শহরটির ড্রেইনেজ সিস্টেম ছিল অত্যান্ত উচু মানের। ধারনা করা হয় তারা অত্যান্ত উন্নত ধরনের ব্রিজ নির্মান করেছিল। তাছারা তারা সৌন্দর্যে জন্য অসংখ্য ছোট বড় ঝরনা তৈরি করেছিল। এর পরে যেটা আসে তা হচ্ছে তারা কংক্রিট বানাতে জানতো। তার মানে তারা হাইরাইজ ভবন বানাতে পারতো।। ধারনা করা হয় দ্বিপের কেন্দ্রে একটি সুউচ্চ প্রসাসনিক এবং একটি মন্দির ছিল যেখানে কনফেডারেশনের গুরুত্বপুর্ন মিটিং গুলো হত। . আর একটা বিষয় হলো তাদের নেভাল পাওয়া ছিল অত্যান্ত ভয়ানক। তাদের এতটাই উন্নত নৌবাহিনি ছিল যে পুরো পৃথিবীর কোন সেনাবাহিনি এই ছোট দ্বিপ রাস্ট্রটির সামনে দারাতে পারতো না। তার মানে এই নেভির জন্য ছিল স্ট্রাটেজিক নেভাল বেইজ এবং ধারনা করা হয় সেটা পানির নিচেই স্থাপন করা হয়েছিল। কতটুকু এডভান্স হলে এই ধরনের কাজ করা যায়। আর একটা বিষয় বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায় যে তাদের কাছে ম্যাজিক্যাল কিছু পাওয়া ছিল যা তারা যুদ্ধগুলোতে ব্যাবহার করত। বিশেষ করে তারা অদ্ভুদ সব যন্ত্রাদি ব্যাবহার করতো দৈনন্দিন সব কাজে। সেন্ট্রাল কোন রাজা না থাকাতে ধারনা করা হয় তাদের শাষন ব্যাবস্থা ছিল কিছুটা ধর্মিয় নির্ভর। একটা সেন্ট্রাল কংগ্রেস পুরো সিস্টেমটা নিয়ন্ত্রন করতো। এবং তাদের উপর ধর্মের প্রবল প্রভাব ছিল। তবে সেটার কোন বিবরন পাওয়া যায় না। পরে ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় তার আরেক বই ‘দ্য লস্ট লেমুরিয়া’। ১৯২৫ সালে দুইটি বই একত্র করে প্রকাশ করা হয় ‘দ্য স্টোরি অফ আটলান্টিস এন্ড দ্য লস্ট লেমুরিয়া’ নামে। এরপর গড়িয়ে যায় বেশ কিছুদিন। এরপর আবার আটলান্টিস নিয়ে কথা বলেন ড. জার্মেন স্প্যানুথ। তিনি ১৯৫৩ সালে জানান, প্লেটো মাদাম বাভাৎস্কি আর স্কট-এলিয়ট যে আটলান্টিসের কথা বলেছেন, তা সত্যিই আছে। তিনি ইউরোপের মূল ভূখণ্ড এবং ব্রিটেনের মাঝামাঝি উত্তর সাগরে অভিযান চালান। আশানুরূপ সাফল্যও পান। তাঁর অনুসন্ধানী দলের এক ডুবুরি সাগরতলের ত্রিশ ফুট নিচে বিস্ময়কর এক দেয়াল খুঁজে পায়। দেয়ালটি ১,০১২ গজ বৃত্তাকার সীমানা ঘিরে রয়েছে। প্রায় দশটা ফুটবল মাঠের সমান। আড়াআড়ি ৩২৮ গজ। সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে ডুবুরিরা পরে আরও কিছু জিনিস নিয়ে আসে। এক ডুবুরি নিয়ে আসে চকমকি পাথর। ড. স্প্যানুথের ধারণা, এগুলো সবই আটলান্টিসের কোনো রাজপথের ভগ্নাংশ। আর চকমকি পাথরটি সম্ভবত ব্যবহৃত হত হাতিয়ার হিসেবে। । আটলান্টিস নিয়ে গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে ভবিষৎতেও হবে, এর কোন শেষ নাই।।। এমন কত আটলান্টিস দুনিয়া থেকে বিলিন হয়ে গিয়েছে, কত সভ্যতা আধুনিক হয়ে আবার হারিয়ে গেছে, তা আমরা জানবো না কোনদিনই। সবকিছু আল্লাহ্ ভালো জানেন।
রহস্য ভালবাসে না এমন মানুষ দুনিয়াতে নাই। অতি প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ রহস্যের পিছনে ছুটছে। কিছু রহস্য মানুষ উদ্ধার করতে পারে, কিছু রহস্য মানুষ কখনোই উদ্ধার করতে পারে না। আজ তেমনি একটা রহস্যের কথা বলবো। চলুন আপনাদের ঘুরিয়া আনি সেই বহুল প্রচলিত রহস্যময় দুনিয়া থেকে।যদি মেক্স লেভেলের Earthquake হয় তাইলে কি আটলান্টিস এর মত আমাদের ভাগ্যে বরণ করবে? আল্লাহ্ ভালো জানেন। তবে আমরা জানি আটলান্টিস এর কথা, অনেকে বলে বাইবেলে আছে এর গল্প, ইংগিত আছে কোরআনেও। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় , হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত নুহ (আঃ) এর মধ্যবর্তী সময়ে আর্বিভুত নবী হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর সময়ে জোর্তিবিদ্যা , অক্ষর ও লেখাপড়ার প্রবর্তন, অস্ত্র নির্মাণ ও বস্ত্র বুনন শিল্পের প্রচলন হয়েছিলো । বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ আবদুল ওহাহাব নাজ্জার এর মতে, হযরত শীস (আঃ) থেকে হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর পূর্বে মানব সভ্যতা সবাপেক্ষা যে অন্চলটিতে বিকশিত হয়েছিলো, সেটি পরবর্তীতে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । তবে অসম্ভব মজার বিষয় হচ্ছে নুহ আ: এর সেই বন্যার আগে পৃথিবী কেমন ছিল এবং কতটুকুন উন্নত ছিল সেটা জানার সাধ্য কারো নেই। কারন সেই ভয়ানক বন্যায় পুরো পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যায়। । আটলান্টিস কি ? । পৃথিবীতে যত হারিয়ে যাওয়া নগরী বা লস্ট সিটি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে হারানো আটলান্টিস। এ শহর সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত কোনো তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও এই নগরী সমৃদ্ধি আর উন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর পাওয়া গেছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিস্ময়কর তথ্যও। পৃথিবীর সেরা রহস্যময় জায়গাগুলোর একটি ধরা হয় এই আটলান্টিসকে। দূর কোনো অতীতে আটলান্টিস পেঁৗছে গিয়েছিল উন্নতি আর আধুনিকতার চরম শিখরে। সমসাময়িক বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিক্ষাকৃষ্টিতে, ঐশ্বর্যে আর সামরিক শক্তিতে অতুলনীয় হয়ে উঠেছিল তখনকার মানুষ। হয়তোবা আমাদের মতো,বা আমাদের থেকে বেশি?তাই আটলান্টিস ছিল এক ঐশ্বর্যময় এলাকা। সুজলা সুফলা পরিবেশের পাশাপাশি এখানকার খনিগুলো ভরা ছিল সোনা, রুপা, আর তামার আকরিকে। মহাদেশের দক্ষিণে আটলান্টিসের নৃপতিরা গড়ে তুলেছিলেন অনুপম এক নগরী। নগরীটির নামও ছিল আটলান্টিস। । একের পর এক সাজানো জলপথ আর স্থলপথ দিয়ে ঘেরা ছিল এই শহর। আর এই নগরের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাজপ্রাসাদটি। ছোট্ট একটি টিলার উপর গড়ে তোলা হয়েছিল এই সুরম্য প্রাসাদ। প্রাসাদ ঘিরে ছিল তিনটি খাল। প্রাসাদ চত্বরের একেবারে কেন্দ্রে ছিল একটি মন্দির। এই মন্দিরে নিয়মিত বসতেন আটলান্টিসের মহাক্ষমতাধর রাজা এ্যাটলাস আর তার নয় ভাই । পাঁচ-ছয় বছর পর পর তারা আসতেন এখানে। তাদের গায়ে থাকতো কালো রংয়ের পবিত্র পোশাক। প্রথমে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বুনো ষাঁড় বলি দিতেন তারা। দেবতাদের তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতেন ষাঁড়ের রক্ত। আর তারপর শুরু হত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আলোচনা। সবশেষে আলোচনার সারসংক্ষেপ লিখে নেওয়া হত সোনার ফলকে আর তা সংরক্ষণ করা হত পরের বৈঠকের জন্য। এই রাজাদের সুশাসনে দীর্ঘদিন সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আটলান্টিসবাসী। আর তারপর একদিন হঠাৎ ধ্বংস হয়ে যায় আটলান্টিস। আকস্মিক দুর্বিপাকে নিমেষে গায়েব হয়ে যায় আটলান্টিসের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। শক্তিশালী ভূমিকম্প দু-টুকরো করে দেয় আটলান্টিসকে। পাহাড় সমান ঢেউ এসে ভাসিয়ে দেয় আটলান্টিসের নগরগুলোকে। ভেসে যায় ক্ষেত-খামার আর বন-বনানী। সবার শেষে যে ভূমিকম্পটি হয়েছিল, সেটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। আর সেই ভূমিকম্প মহাদেশটিকে ডুবিয়ে দেয় সাগরতলে। মাত্র একদিন এবং একরাতের মধ্যে গোটা মহাদেশ বিলীন হয়ে যায় সাগরের গভীরে। কিংবদন্তীর এই বিশাল দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরে তলিয়ে যাওয়ার পর আর দেখা যায়নি কোনো দিন। এরও প্রায় নয় হাজার বছর পর প্রথমবারের মতো আটলান্টিসের গল্প বলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।গ্রিক দার্শনিক প্লেটো কি বলেছিলেন?তখন এসব খটমট বই খটমট ভাষায় লেখা হত না; নাটকের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলাই রীতি ছিল। এই নাটকগুলোকে বলা হত ‘ডায়ালগ’। প্লেটোর প্রথম ডায়ালগটির নাম ‘রিপাবলিক’। পরবর্তীতে তিনি আরও দুটি ডায়ালগ রচনা করেন— কাক ‘টিমিউস’ এবং ‘ক্রিটিয়াস’। এ দুটি ডায়ালগেই তিনি বিশদভাবে বর্ণনা দেন আটলান্টিসের। তবে ক্রিটিয়াসের বর্ণনায়ই আটলান্টিসের ছবি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সেই বর্ণনা অনেকটা এরকম। সে একদম সৃষ্টির শুরুর দিকের কথা। দেবতারা তখন পৃথিবী ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন। এসময় সাগরদেবতা পসাইডন ভাবলেন, তিনি নেবেন বিশাল এক মহাদেশ আর তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা কতগুলো দ্বীপ। যেমনি ভাবা, তেমনি কাজ। তার ছিল পাঁচ জোড়া যমজ সন্তান। প্রথম সন্তানের নাম রাখেন এ্যাটলাস। এই বিশাল ভূ- খণ্ডের নামও রাখলেন এই এ্যাটলাসের নামেই— আটলান্টিস। রাজা পসাইডন আটলান্টিসকে মোট দশ ভাগে ভাগ করলেন। সবচেয়ে বড় আর ভালো অংশটির প্রধান বানালেন এ্যাটলাসকে। কেবল প্লেটোই যে এই হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিসের বর্ণনা দিয়েছেন, তা কিন্তু নয়। পরে আরও অনেকেই এর উল্লেখ করেছেন। যেমন মাদাম বাভাৎস্কি। রাশিয়ান এই মহিলা ছিলেন অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আটলান্টিস নিয়ে আস্ত একটি বই-ই লিখেছেন— ‘দ্য সিক্রেট ডকট্রিন’।দুই খণ্ডের বইটিতে লেখক প্রাচীন আটলান্টিসকে উল্লেখ করেন হারিয়ে যাওয়া লেমুরীয় সভ্যতার উত্তরসুরী হিসেবে। মাদাম বাভাৎস্কি ও তার অনুসারীরা বিশ্বাস করতেন, সৃষ্টির শুরুতে সাতটি মূল জাতি ছিল। আর লেমুরীয়রা তাদের মধ্যে তৃতীয়। দক্ষিণ গোলার্ধ জুড়ে ছিল তাদের মহাদেশ। কথাও বলতে পারত না তারা। তবে তাদের চোখ ছিল তিনটি। তাদের এই তিন নম্বর চোখের এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল। সেই ক্ষমতার মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ করত একে অপরের সঙ্গে। বাভাৎস্কির মতে, আটলান্টিসবাসীরা এই লেমুরীয়দেরই বংশধর, চতুর্থ মূল জাতি। লাখ লাখ বছর আগে ডুবে যায় লেমুরীয়দের মহাদেশ। উত্তর আটলান্টিকে কেবল জেগে ছিল সামান্য একটু অংশ। পরবর্তীতে সেখানেই গড়ে ওঠে আটলান্টিস সভ্যতা। একদিন ডুবে যায় সেটিও। অস্ট্রিয়ার দার্শনিক রুডলফ স্টাইনারও বলে গেছেন আটলান্টিসের কথা। তিনি গবেষণা করে দেখান, আটলান্টিসবাসীরা উড়তেও শিখেছিল। তবে ওদের আকাশযানগুলো এখনকার পৃথিবীতে ওড়ার উপযোগী নয় মোটেও। কারণ, তখনকার দিনে বাতাস ছিল অনেক ঘন আর ভারি। আটলান্টিসকে নিয়ে লিখেছেন উইলিয়াম স্কট-এলিয়ট-ও। আর তার বর্ণনা প্লেটোর চেয়েও নিখুঁত। দিব্যজ্ঞান পেয়েছিলেন তিনি। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘দ্য স্টোরি অফ আটলান্টিস’। ওই বইয়ের তিনি লিখেছেন, আটলান্টিস শাসন করত এক শ্রেণীর অভিজাত মানুষ। তাদের সমাজ ছিল সর্বগ্রাসী, সর্বনাশা। সব কিছুকেই নিজেদের আয়ত্তে নিতে চাইত তারা। প্রযুক্তির দিক থেকেও উৎকর্ষতা লাভ করেছিল আটলান্টিয়ানরা। ঘণ্টায় একশ মাইল গতিতে চলতে পারে এমন উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেছিল তারা। আর সেই উড়োজাহাজ চালান হত ‘ভ্রিল’ নামের এক ঘরনের জ্বালানি দিয়ে। যার সঙ্গে মিল আছে আজকের জেট ফুয়েলের। । একটা দ্বিপকে তারা ঠিক সেন্ট্রাল অংশ বরাবর গোল করে স্তরে স্তরে প্লানিং করেছিল। প্রতিটা স্তরে পানির চলাচলের ব্যাবস্থা ছিল। তার মানে শহরটির ড্রেইনেজ সিস্টেম ছিল অত্যান্ত উচু মানের। ধারনা করা হয় তারা অত্যান্ত উন্নত ধরনের ব্রিজ নির্মান করেছিল। তাছারা তারা সৌন্দর্যে জন্য অসংখ্য ছোট বড় ঝরনা তৈরি করেছিল। এর পরে যেটা আসে তা হচ্ছে তারা কংক্রিট বানাতে জানতো। তার মানে তারা হাইরাইজ ভবন বানাতে পারতো।। ধারনা করা হয় দ্বিপের কেন্দ্রে একটি সুউচ্চ প্রসাসনিক এবং একটি মন্দির ছিল যেখানে কনফেডারেশনের গুরুত্বপুর্ন মিটিং গুলো হত। . আর একটা বিষয় হলো তাদের নেভাল পাওয়া ছিল অত্যান্ত ভয়ানক। তাদের এতটাই উন্নত নৌবাহিনি ছিল যে পুরো পৃথিবীর কোন সেনাবাহিনি এই ছোট দ্বিপ রাস্ট্রটির সামনে দারাতে পারতো না। তার মানে এই নেভির জন্য ছিল স্ট্রাটেজিক নেভাল বেইজ এবং ধারনা করা হয় সেটা পানির নিচেই স্থাপন করা হয়েছিল। কতটুকু এডভান্স হলে এই ধরনের কাজ করা যায়। আর একটা বিষয় বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায় যে তাদের কাছে ম্যাজিক্যাল কিছু পাওয়া ছিল যা তারা যুদ্ধগুলোতে ব্যাবহার করত। বিশেষ করে তারা অদ্ভুদ সব যন্ত্রাদি ব্যাবহার করতো দৈনন্দিন সব কাজে। সেন্ট্রাল কোন রাজা না থাকাতে ধারনা করা হয় তাদের শাষন ব্যাবস্থা ছিল কিছুটা ধর্মিয় নির্ভর। একটা সেন্ট্রাল কংগ্রেস পুরো সিস্টেমটা নিয়ন্ত্রন করতো। এবং তাদের উপর ধর্মের প্রবল প্রভাব ছিল। তবে সেটার কোন বিবরন পাওয়া যায় না। পরে ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় তার আরেক বই ‘দ্য লস্ট লেমুরিয়া’। ১৯২৫ সালে দুইটি বই একত্র করে প্রকাশ করা হয় ‘দ্য স্টোরি অফ আটলান্টিস এন্ড দ্য লস্ট লেমুরিয়া’ নামে। এরপর গড়িয়ে যায় বেশ কিছুদিন। এরপর আবার আটলান্টিস নিয়ে কথা বলেন ড. জার্মেন স্প্যানুথ। তিনি ১৯৫৩ সালে জানান, প্লেটো মাদাম বাভাৎস্কি আর স্কট-এলিয়ট যে আটলান্টিসের কথা বলেছেন, তা সত্যিই আছে। তিনি ইউরোপের মূল ভূখণ্ড এবং ব্রিটেনের মাঝামাঝি উত্তর সাগরে অভিযান চালান। আশানুরূপ সাফল্যও পান। তাঁর অনুসন্ধানী দলের এক ডুবুরি সাগরতলের ত্রিশ ফুট নিচে বিস্ময়কর এক দেয়াল খুঁজে পায়। দেয়ালটি ১,০১২ গজ বৃত্তাকার সীমানা ঘিরে রয়েছে। প্রায় দশটা ফুটবল মাঠের সমান। আড়াআড়ি ৩২৮ গজ। সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে ডুবুরিরা পরে আরও কিছু জিনিস নিয়ে আসে। এক ডুবুরি নিয়ে আসে চকমকি পাথর। ড. স্প্যানুথের ধারণা, এগুলো সবই আটলান্টিসের কোনো রাজপথের ভগ্নাংশ। আর চকমকি পাথরটি সম্ভবত ব্যবহৃত হত হাতিয়ার হিসেবে। । আটলান্টিস নিয়ে গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে ভবিষৎতেও হবে, এর কোন শেষ নাই।।। এমন কত আটলান্টিস দুনিয়া থেকে বিলিন হয়ে গিয়েছে, কত সভ্যতা আধুনিক হয়ে আবার হারিয়ে গেছে, তা আমরা জানবো না কোনদিনই। সবকিছু আল্লাহ্ ভালো জানেন।




কোন মন্তব্য নেই